Image description

জাতীয় সংসদে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের বক্তব্য শোনার দায়িত্ব এবং কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হট্টগোলের পর দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর তার বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। বক্তব্যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসংসদীয় বিষয় থাকলে স্পিকারের আসন থেকে রুলিং দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও তার বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া বা থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘তিনি যদি আনপার্লামেন্টারি কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে তার জবাব দিতে পারেন।’

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? তার যে সংসদ সদস্য হিসেবে অধিকার ছিল, সেটা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?’

ঘটনার প্রতিকার এবং রুমিন ফারহানার বক্তব্য সংসদের রেকর্ডে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে ডেপুটি স্পিকারের কাছে জানতে চান ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

এর আগে ব্যাংক রেজল্যুশন বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্যের সময় সংসদ কক্ষে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না।’ একইভাবে সার সংকট, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির বিষয়েও তিনি বিএনপি সরকারের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।

এ সময় সংসদের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা।’

ব্যাংক রেজল্যুশন বিলের একটি ধারা নিয়েও আপত্তি জানান রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্য চলাকালে হট্টগোলের কারণে সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ তার বক্তব্য স্পষ্টভাবে শুনতে পারেননি।

এই পরিস্থিতির পরই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার এবং সংসদীয় পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রতিকারের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।