নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার এনসিপি নেত্রী সৈয়দা সাদিয়া ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সাদিয়া ইসলামকে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় টাকা নিতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাদিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওইদিন রাতে বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় সাদিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠে সাদিয়ার বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তারের দাবি, তিনি নিজেসহ পাঁচজনের কাছ থেকে সাদিয়া তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সাদিয়া ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানান। পরে বিকেলে অন্য এক নারীর কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কুড়পাড় এলাকার প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়া ইসলাম পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, স্থানীয় কমল নামে এক ব্যক্তির কথায় তিনি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। তবে যারা তাকে টাকা দিয়েছেন, তারা নিজেদের উদ্যোগেই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় ওই টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিয়ার আরো দাবি, কমলের কথায় নেওয়া ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যই তিনি কুড়পাড় এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
ওসি আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা করেছেন। সাদিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা সাদিয়া স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ধারণা, সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে সাদিয়া কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।