Image description
সৌদি আরবে দুর্ঘটনা

মাত্র দু’মাস আগে শোকাতুর হয়ে পড়েছিল সিলেটের কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকা। কাতারে ঘটেছিল ট্র্যাজেডি। আর এতে মারা গিয়েছিলেন ৫ জন। আগতালুক গ্রামের ছিলেন দু’জন। সোমবার সৌদি আরবের ‘শীতল শহর’ তায়েফে ঘটলো আরেক সড়ক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ গেল চারজনের। এর মধ্যে দু’জন আগতালুক গ্রামের। ওদের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছার পর ফের শোকাতুর হয়েছে পরিবেশ। নিহতদের বাড়ি আগতালুক গ্রামে চলছে শোকের মাতম। আব্দুল করিম ও খালেদ আহমদের পাশাপাশি বাড়ি। সোমবার সকালে স্বজনদের কাছে ফোন দিয়েছিলেন। বাড়ি আসছেন। বিকালে ফ্লাইট। আব্দুল করিম সৌদি আরবের তায়েফ শহরে বসবাস করছেন ২৭ বছর ধরে। তিন বছর আগে বাড়ি এসেছিলেন। এবার ছেলে জুবের আহমদকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন খালেদও।

আরও দু’জন প্রবাসী ছিলেন গাড়িতে। তায়েফ শহর থেকে জেদ্দা। এরপর বিমান ধরে সিলেট। সকালেই তায়েফ থেকে তারা রওয়ানা দেন জেদ্দার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে বেলা দুইটার দিকে আল খুরমা এলাকায় তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারায়। উল্টে ধুমড়ে-মুছড়ে যায় গাড়ি। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আব্দুল করিম ও খালেদ আহমদ। তাদের সঙ্গে মারা যান কুমিল্লার শাহ আলম ও সুনামগঞ্জের আমিন উদ্দিন। গাড়িতে ছিলেন আব্দুল করিমের ছেলে জুবের আহমদও। তিনি ছিটকে পড়ে প্রাণে রক্ষা পান। তবে গুরুতর অবস্থায় তিনি তায়েফের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাতেই খবর পৌঁছে কানাইঘাটের গাছবাড়িতে। মারা গেছেন আব্দুল করিম ও খালেদ আহমদ। আগতালুক গ্রামে ফের কান্নার রোল। সকাল থেকে এলাকার মানুষ ভিড় করছিলেন নিহত আব্দুল করিম ও খালেদ আহমদের বাড়িতে। আব্দুল করিমের বড় ভাই জফুর উদ্দিন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পঞ্চাশ বছর বয়সী আব্দুল করিম সৌদি আরবে বসবাস করছেন প্রায় ২৭ বছর ধরে। কয়েক বছর আগে তার ছেলে জুবেরকেও ওখানে নিয়ে যান। তিন বছর আগে আব্দুল করিম বাড়িতে এসেছিলেন। সোমবার বাড়ি ফেরার জন্য রওয়ানা দিলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

ছেলে জুবের গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বলেন- আব্দুল করিমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তায়েফে ভর্তি থাকা ছেলের অবস্থা কী এখনো পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। ভাইকে হারানোর পাশাপাশি ভাতিজার অবস্থা নিয়েও তারা চিন্তিত রয়েছেন। খালেদ আহমদের বাড়িও আব্দুল করিমের বাড়ির পাশাপাশি। খালেদও তায়েফ থাকেন। পেশায় তিনি গাড়িচালক। তিনিও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন সৌদি আরবে। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহায় তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এবার জরুরি কাজে বাড়ি আসছিলেন। একই দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। খালেদ আহমদের ছেলে আব্দুল হাফিজ পিতার শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। শুধুই কাঁদছেন। জানান- ক’দিন ধরে তার পিতা বাড়ি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সোমবার সকালেও ফোন দিয়ে জানিয়েছিলেন রওয়ানা দিচ্ছেন। এরপর কয়েক ঘণ্টা তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে জানা গেল তিনি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

হাফিজ জানান, তার পিতা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত হয়ে পড়েছেন। পরিবারের লোকসংখ্যাও বেশি। ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে সে চিন্তায় তারা অস্থির বলে জানান। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর লাশ দেশে এনে সমাহিত করতে চান পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে একমত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ জানিয়েছেন- এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়। বাড়ি ফেরার পথে তারা মারা গেছেন। এজন্য গোটা এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি বলেন- পরিবার চায় লাশ দেশে নিয়ে আসা হোক। আমরাও সেটি চাই।

এজন্য প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা। সরকারের তরফ থেকে লাশ নিয়ে আসলে আমরা খুশি হবো। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত লাশ দেশে এনে দাফন করা হোক। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক অনুদান দেয়ার দাবিও জানান তিনি।