Image description

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মৃত ভ্রণসহ স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুজন হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর কবির (৪২)। এর মধ্যে নাজমা গার্মেন্টসকর্মী এবং স্বামী আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রেতা ছিলেন। এ ঘটনায় নাজমা আক্তারের বোন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই তদন্ত করে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের দিন আলমগীর কবির নিজেই গ্রেফতার ওই ব্যক্তিকে তাদের বাসায় ডেকে এনেছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করেন ওই ব্যক্তি। এ সময় নাজমার সাত মাসের পেটের সন্তানের মৃত্যু হয়। তদন্ত করে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে একজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হত্যার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাননি। সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন বলেন তিনি।

পিবিআই বলছে, নাজমার সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকালে কারখানা ছুটির পর নাজমা বাসায় যান। পরে তার স্বামী আলমগীর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে ডেকে আনেন। তারা একসঙ্গে বাসায় যান। রাতে নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করে বাসার বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়ার জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। নাজমার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। স্বামী আলমগীর ওই পরকীয়া প্রেমিককে বাসায় ডেকে সতর্ক করতে চেয়েছিলেন। বাসায় ডাকার পর এ নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যান পরকীয়া প্রেমিক।’

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, ‘ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করি আমরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় দিচ্ছি না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হবে। তবে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।’