বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে।
সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বের হতে না পারার কারণে সুন্দর এই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। কারণ নেতারা ওয়াদা করে তা রাখছেন না এবং দেশের মানুষের কথা কেউ চিন্তা করছেন না। সমন্বয়হীনতা এবং জনগণকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার কারণে দেশে অরাজকতা বেড়েই চলছে।
১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, ১১ দলীয় জোট গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে লংমার্চ করেছে। ১১ দলীয় জোট যে দাবিগুলো নিয়ে পথে নেমেছে, তা জনগণের দাবি; জোটের কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তেল নিয়ে তেলেসমাতির পাশাপাশি দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সময়মতো গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার সার সরবরাহ করতে না পারায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং বেশি দাম দিলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
তাদের এই অব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি সবার কাছে পরিস্ফুটিত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে ধারণ করে নির্বাচনের সময় আমাদের ভোট হয়েছিল দুটি। কিন্তু সরকার বারবার কথা দিয়েও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সংসদে নানা কথা বললেও বাস্তবে উল্টো কাজ করছে। সংসদে তিন-তিনটি অধিবেশন হয়ে গেছে। দাবি না মানায় ১১ দলীয় জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পরও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কয়েকটি বিল পাস করেছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের অপকৌশল এবং কার্যকলাপ বুঝতে পেরে বিরোধীদের মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।
এটিএম আজহার বলেন, লংমার্চে ১১ দলীয় জোট জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে তাদের দাবির পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন এবং আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছি।
তিনি বলেন, তবে মাঠে নামার আগে এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আমাদের দলের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে আলোচনা করে সমাধানের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি এবং আমাদের কথাগুলো শোনেননি। এ কারণে জনগণের সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নে এবং মানুষের চাওয়াগুলো পরিপূর্ণ করতে আমরা মাঠে নেমে পড়েছি।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল। একটি হচ্ছে মার্কায় দেওয়া ভোট, যা নির্ধারণ করে কে ক্ষমতায় যাবে আর কে যাবে না। আরেকটি ছিল জুলাই আন্দোলনের সপক্ষে ভোট। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে জুলাইয়ের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তারা সেই রায় ভুলে গেছে। অথচ এর আগে তারা ঐক্যমত কমিশনে জুলাইয়ের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিল।
সংবিধানের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের রায়ে সংবিধান তৈরি হয়, তাই সংবিধানের আগে জনগণ। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধানের কথা যদি বলেন, তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, তা কি সংবিধানসম্মত হয়েছে? তাই এ ধরনের কথা বলে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট এবং জুলাইয়ের দাবিগুলো অবজ্ঞা করা, জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তামাশা করা—যা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট লংমার্চ শুরু করেছে। এর পরে আমরা ১৯ তারিখে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করব। এর পরেও সরকার জনগণের দাবিগুলো মেনে না নিলে সব বিভাগীয় শহরে লংমার্চ শেষে ঢাকায় একটি সমাবেশ করে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।
এর আগে সকালে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বদরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান সুলতানা, উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির রুস্তম আলী, টিএইচও ডা. আরেফিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু মুসাসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।