Image description
কওমি মাদ্রাসা থেকে ইদানিং অনেককেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জামায়াতে যোগদানকারীদের আকিদা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি।
 
তাছাড়াও, কওমি শিক্ষার্থী কিংবা আলেমদের জামায়াতে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রবীন এ আলেম। 
 
তিনি বলেছেন, জামায়াতে মানুষ যায় আবেগের উপরে, ওদের সাথে চলতে চলতে এরপরে আকিদা নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে, আমরা এটাকে খুবই খারাপ অবস্থা হিসেবে দেখছি। কওমি মাদ্রাসার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত থেকে যতগুলো ছেলে জামায়াতে যাচ্ছে- আমরা আশঙ্কা বোধ করছি, ছয় মাস বা এক বছরের ভেতরে এদের আকিদা নষ্ট হয়ে যাবে। 
 
সম্প্রতি আওয়ার ইসলাম টিভি নামে এক অনলাইন প্লাটফর্মকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। 
 
সাক্ষাৎকারে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি বলেন, “জামায়াতে প্রথম মানুষ যায় আবেগের উপরে, ভালো বোঝার উপরে; ওদের সাথে চলতে চলতে এরপরে আকিদা নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে আমরা এটাকে খুবই খারাপ অবস্থা হিসেবে দেখছি। কওমি মাদ্রাসার আহলে সুন্নাত ওয়াল যতটা ছেলে জামায়াতে যাচ্ছে। আমরা আশঙ্কা বোধ করছি, ছয় মাস বা এক বছরের ভেতরে এদের আকিদা নষ্ট হয়ে যাবে।”
 
তিনি বলেন, “আমরা জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো জোটে যেতে চাই না। আমরা চেয়েছিলাম, আমরা সাত দল একসাথে চলি। কিন্তু উনারা (মামুনুল হক) চলে গেলেন ঐদিকে। উনারা যখন ঐদিকে চলে গেলেন তাহলে উনাদেরকে জিজ্ঞেস করতেন যে, আপনারা কোন সাইড না নিয়ে নিজে নিজে চলতেন? সর্বশেষ ইলেকশনের সময় আমরা চলে গেলাম। আমরা অপেক্ষায় আছি, এই মুহুর্তে উনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করে ফেললেন জামায়াতের সাথে। এরপরে উনাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেন। আমরা তিনবারে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। এরপর মনোনয়নের সামান্য আগে আমরা বিএনপি জোটে যোগ দিয়েছি। আমরাও চিন্তা করছিলাম একা করবো না। কিন্তু সাথী-সঙ্গী যখন ওইদিকে চলে গেছেন, যার কারণে আমরা বিএনপি জোটে গিয়েছি।”
 
প্রবীন এ আলেম বলেন, “জামায়াত অস্তিত্ব লাভ করার পর থেকে নিয়ে আমাদের কওমি মাদ্রাসায় বিশাল একটা শক্ত ওয়াল ছিল। কওমী মাদ্রাসায় জামায়াত ঢুকতে পারত না। কিন্তু এই ইলেকশনকে সামনে রেখে মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যখন জামায়াত জোটে গেল তখন থেকে কওমি মাদ্রাসার মানুষজন ওইদিকে যাচ্ছে। কিছু মানুষ মামুন সাহেবকে ভালোবাসে; মামুন সাহেবকে একটা জাতীয় নেতা মনে করে। আর এসব হইলো ইয়ং আর ছাত্ররা। কোনো বড় ওলামায়ে কেরাম ও বিবেকবান মানুষ মামুন সাহেবের সাথে নাই।”
 
মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলেন, “এইসব ছেলেপেলেরা একটা হুংকার চায়। পলিসি সম্পর্কে এদের কোন আইডিয়া নাই। যার কারণে মামুন সাহেবের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার কারণে এবং উনি ওই জোটে যাওয়ার কারণে একটা হিড়িক পড়েছে। কওমী মাদ্রাসার অনেক মানুষ ওইদিকে যাচ্ছে। যারা যাচ্ছে, তারা কোন রাজনীতিও বোঝে না। তারা দেশের কোনো ভবিষ্যতও বোঝেনা। মামুন সাহেব কী নিয়ে আন্দোলন করতেছেন, জিজ্ঞেস করলেও এটা বলতে পারবে না। উনার উপরে এদের একটা আকিদা আছে, উনি ওইদিকে গেছেন; এই কারণে সব ঢুকছে।”
 
আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জামায়াতে প্রথম মানুষ যায় আবেগের উপরে, ভালো বোঝার উপরে; ওদের সাথে চলতে চলতে এরপরে আকিদা নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে আমরা এটাকে খুবই খারাপ অবস্থা হিসেবে দেখছি। কওমি মাদ্রাসার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত থেকে যতগুলো ছেলে জামায়াতে যাচ্ছে- আমরা আশঙ্কা বোধ করছি, ছয় মাস বা এক বছরের ভেতরে এদের আকিদা নষ্ট হয়ে যাবে।”
 
বিএনপি জোটে যোগ দেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো জোটে যেতে চাই না। আমরা চেয়েছিলাম, আমরা সাত দল একসাথে চলি। কিন্তু উনারা (মামুনুল হক) চলে গেলেন ঐদিকে। উনারা যখন ঐদিকে চলে গেলেন তাহলে উনাদেরকে জিজ্ঞেস করতেন যে, আপনারা কোন সাইড না নিয়ে নিজে নিজে চলতেন? সর্বশেষ ইলেকশনের সময় আমরা চলে গেলাম। আমরা অপেক্ষায় আছি, এই মুহুর্তে উনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করে ফেললেন জামায়াতের সাথে। এরপরে উনাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেন। আমরা তিনবারে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। এরপর মনোনয়নের সামান্য আগে আমরা বিএনপি জোটে যোগ দিয়েছি। আমরাও চিন্তা করছিলাম একা করবো না। কিন্তু সাথী-সঙ্গী যখন ওইদিকে চলে গেছেন, যার কারণে আমরা বিএনপি জোটে গিয়েছি।”
 
তিনি বলেন, “এক মিটিংয়ে আমরা বলেছি, কোনো জোটে কেউ থাকতে পারবে না। আমরা নিজেরা একটা জোট তৈরি করবো, আর আমরা নিজেদের মতো করে চলবো। কিন্তু মাওলানা মামুন সাহেব বলছেন যে, রাজনীতি যে যার সাথে ইচ্ছা করুক, বাকি ইস্যুতে আমরা একসাথে চলবো। আমরা দেখলাম, এটা একটা বেকার কথা। জামায়াতের সাথে উনি চলবেন আর আমরা বাকি ইস্যুতে উনার সাথে একসাথে চলবো। এটা একটা বেকার কাজ।”
 
ইসলামিক দলগুলো নিয়ে জোট করার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো মুহূর্তে বিএনপিকে ও জামায়াতকে ছেড়ে আমাদের সাথী-সঙ্গীরা যদি আসেন, তাহলে আমরা ১০০ ভাগ একসাথে চলতে রাজি। আমাদের কাছে লিখিত চেয়েছিলেন, আমরা ঐক্যের উপরে একমত হয়েছি, আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি। তার ফর্মুলা কি হবে, সে ব্যাপারে আমরা লিখিত দিয়েছি। এতে বলা আছে, আমরা কেউ বিএনপি জোটে থাকতে পারবে না; জামায়াত জোটেও না। এই শর্তে যত দল হয়, সবাই সবার সাথে আমরা মিলেমিশে চলতে পারি। কিন্তু মামুন সাহেব বলছেন, পলিটিক্যালি যে যেভাবে করে করুক আর বাকি ব্যাপারে আমরা একসাথে হবো। যার কারণে এই জোটে খেলাফত মজলিস আসবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দেহ করতেছি। বাকি দলগুলার ব্যাপারে এখনো আমরা আশা পোষণ করি।”
 
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে জমিয়ত সভাপতি বলেন, “সারা পৃথিবীতে সংবিধানে সংশোধনী আছে। এখন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে যে, এটা একদম সংস্কার করতে হবে। তার মানে সংবিধানের মূল অস্তিত্ব আর অবয়ব সম্পূর্ণ খতম করে ফেলবে। আর এই স্লোগানটা দিতেছে ঐসব মানুষ, যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করছে; যারা ওই সময় গুলি চালাইছে; যারা ঐ সময় এই দেশের মানুষকে মারছে। আর ২৫ শতাংশ ভোটের অধিকারী হল তারা। তারা চাচ্ছে যে, দেশ স্বাধীন করা ব্যক্তিদের ঐক্যমতে তৈরি এই সংবিধানকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলবে। যদি এই ধরনের কাজ করে, তাহলে এটা একটা দুরভিসন্ধি। এখন জুলাই সনদের কথা বলে সংবিধানকে সংস্কার করে তারা আপনার জাতে উঠে যাবে। স্বাধীনতা বিরোধী ছিল এটাকে মুছে ফেলবে।”
 
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি আরও বলেন, “আজ দেশে দ্রব্যমূল্যের অবস্থা, জ্বালানির অসুবিধা, মানুষের কত ধরনের অভাব। এগুলো নিয়ে কথা না বলে, জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলা, সংবিধান সংস্কার করে কথা বলা;  এটা দেশের জন্য, জাতির জন্য কি কল্যাণ নিয়ে আসবে? নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক, এটা আমরাও চাই। কিন্তু জামায়াত তো এটা চাচ্ছে না। জামায়াত চায় যে, সংবিধান যেটা চলছে এটাকে পুরো সংস্কার করে তার অবয়ব, তার কাটিং-গঠন সম্পূর্ণ খতম করে ফেলবে। জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আলাদা জিনিস। সংস্কারের ওপরে তো ভোট হয়নি। ভোট হয়েছে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদের কয়েকটি পয়েন্টের ওপর।”