সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে মশকরা করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পিকারের এ আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
রোববার জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের প্রতিবাদে অধিবেশন বর্জন করে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধী দলের নেতারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য রাখার জন্য সুযোগ চাইলেও স্পিকার তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে তিনি মশকরা করেছেন। স্পিকারের কাছ থেকে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় এবং এটি অত্যন্ত হতাশার।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার তাড়াহুড়ো করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। তার দাবি, প্রস্তাবিত আইন দুটিতে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগও রাখা হয়নি।
এদিকে, সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান। তিনি বিলটিকে কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী বলে দাবি করেন। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামী বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না রেখেই বিষয়টি সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নজিবুর রহমানের ভাষ্য, সংসদের স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের পরিবর্তে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনগুলোকে আরো দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে।
পাস হওয়া আইনকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে নজিবুর রহমান বলেন, এর ফলে মানুষের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার মতো ঘটনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে সরকার আবারো আগের ধারাতেই দেশ পরিচালনা করছে।