রাজশাহীর মোহনপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথির আসনে বসেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। ঘটনা গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার। বিএনপির দলীয় অনুষ্ঠানের অতিথি আসনে ওসির আসন গ্রহণের ছবিটি সামাজিকমাধ্যমে ছড়ায় রোববার দুপুরে।
এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। দলীয় মঞ্চের অতিথি আসনে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বসার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর জেলা পুলিশেও চলছে তোলপাড়।
কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি যেভাবেই ঘটুক ওসি সেটা ঠিক করেননি। তদন্ত করার কথাও জানিয়েছেন তারা।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেশরহাট পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এ আয়োজন করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন।
ওই অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা গেছে, মঞ্চে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বসে আছেন। তার পাশে দলীয় একজন নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তার বাম পাশের দুজনের পরের চেয়ারেই সাদা পোশাকে বসে আছেন মোহনপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান।
রাজনৈতিক দলের মঞ্চে ওসির সাদা পোশাকে বসে থাকার বিষয়টি নিন্দনীয় দাবি করে রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী রোববার বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো দলের মঞ্চে বসার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দলের অনুষ্ঠানের অতিথি আসনে বসিয়েছেন। এটাও তাদের দেওলিয়াত্বের নজির। থানার ওসি কোনো দলের মঞ্চে বসতে পারেন না।
বিএনপির অনুষ্ঠানমঞ্চে অতিথি আসনে সাদা পোশাকে বসে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এটা অনুষ্ঠান শুরুর আগে ঘটেছে।
ওসি স্বীকার করেন, চাকরিবিধি অনুযায়ী তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানমঞ্চের অতিথি আসনে বসতে পারেন না। তিনি ওই সময় ডিউটিতে গিয়েছিলেন। বিএনপির শোভাযাত্রা শুরুর আগে কয়েকজন নেতা তাকে বসতে অনুরোধ করেন। তখন তিনি অনুষ্ঠান মঞ্চে অতিথির আসনে বসে পড়েন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, ওসি পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অতিথির মঞ্চে তিনি বসতে পারেন না। ওসি সেখানে ডিউটিতে গিয়ে থাকলে তার উচিত ছিল পোশাকে থাকা। সাদা পোশাকে মঞ্চে অতিথি আসনে বসা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। কারণ তিনি দলমত নির্বিশেষ সবার নিরাপত্তার জন্য কাজ করেন। কোনো একটি দলের জন্য নয়।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ওই অনুষ্ঠানের ছবি এবং ভিডিও তিনিও দেখেছেন। ওসির সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন। ওসির ভাষ্য, অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য থাকা পুলিশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শুরুর আগে কেউ একজন তাকে ডেকেছিলেন। ওই সময় তিনি মঞ্চে গিয়ে বসেন।
বিষয়টি ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এভাবে কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসাটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করে তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।