Image description

জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম (৫৫)। কিন্তু কারাফটক থেকে অন্য একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। এর পরদিনই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

নুরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

নুরুল ইসলাম মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য, ওই মামলায় ৩১ আগস্ট জামিন পান নুরুল ইসলাম। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তির সময় কারাফটক থেকে তাকে অন্য একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া আক্তারের দাবি, পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুশ্চিন্তা ও মানসিক পীড়নে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্বামী।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে নুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নুরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এমএসএফ জানিয়েছে, জামিন পাওয়ার পরদিন পুনরায় গ্রেপ্তার এবং তার পরদিন কারাগারে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।

এমএসএফ মনে করে, কারাগারকে শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারা হেফাজতে থাকা প্রতিটি নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় অনেক কারাবন্দির পরিবার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করে আসছেন।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্টে কারা হেফাজতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক ছিলেন তিনজন।