শীর্ষ সন্ত্রাসী বাদল, পুলিশের খাতায় যিনি ‘কিলার বাদল’ নামে পরিচিত। আর লাললু তার সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাদের নামেই মোহাম্মদপুরের তারেক মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ফোনে চাঁদা চেয়ে হুমকি যিনি দিয়েছেন, তিনি হলেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির যুবদলের বিলুপ্ত হওয়া কমিটির নেতা ফারুক হোসেন ওরফে রিপন মাস্টার।
মোহাম্মদপুরের র্যাব-২ সদর দপ্তরের ১০০ গজের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। চাঁদা না দেওয়ায় গত ৩০ আগস্ট তৃতীয় দফায় চাপাতি নিয়ে হামলা ও গুলি চালানো হয় ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এসময় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা প্রতিরোধ করলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার পরপরই মোহাম্মদপুর থানায় তারেক মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী তারেক আজিজ মামলা করেন। সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে ভেতর থেকে দোকান আটকে কাজ করছেন কর্মচারীরা।
ঘটনার বিষয়ে দোকানের কর্মচারীরা বলেন, এগুলো তো কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী—এদের জন্য আমরা কাজ করতে পারি না। আমরা তো ভয় পেয়ে যাই। ওরা তো রামদা নিয়ে চলে আসে। দুপুরবেলা একবার আইসা হামলা করছিল। যখন গুলি করে, তখন তিনজন ছিল।
তবে তারেক মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী তারেক আজিজ বলেন, না, ওই ইস্যু তো শেষ। শেষ হয়ে গেছে। এখন টাকা-পয়সা চায় না।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জড়িত বাকিদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, এই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা যদি অন্যদের নাম পাই, কিংবা আমাদের লোকাল সোর্সের মাধ্যমে যদি দেখি যে অন্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তো আমরা অবশ্যই—সে যেই হোক না কেন—তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখব।
হুমকিদাতা ফারুক হোসেন রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মিস্টেকলি হয়তোবা সে যেকোনো একটা বিষয়ে ভুল বুঝে থাকতে পারে। সেটা আমার সঙ্গে তার অবসান হয়েছে। এরকম ঘটনাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
চাঁদার দাবিতে এ প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত তিন দফা হামলা এবং গুলির ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে এখানে কাজ করা শ্রমিকেরা আতঙ্কিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের হুমকি-ধমকির ঘটনা চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।