চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সামনে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে মহাসড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও যুবদলনেতা কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আসলাম চৌধুরী বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও কাজী সালাহউদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে সালাহউদ্দিনকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে সেটা পাল্টে আসলাম চৌধুরীকে দেওয়া হয়। তিনি নির্বাচনে জিতলেও খেলাপিঋণ জটিলতায় উচ্চ আদালত থেকে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ বিকাল ৩টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুণ্ড পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে এবং কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, দুই নেতার অনুসারীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে পৌর সদরে মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তাদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, লোহার রড ছিল। পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্ট পরা একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপক্ষ আরেকপক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। তবে পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধাওয়া দিয়ে দুই পক্ষকে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচিস্থলে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
সংঘর্ষের জেরে সীতাকুণ্ডে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাহউদ্দিন এবং পৌর সদরে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে আছে। বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘উভয়পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আহত হওয়ার মতো সংঘর্ষ হয়নি। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন উভয়পক্ষ আলাদা আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল।’
আগ্নেয়াস্ত্র মহড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বললেন, ‘আমাদের চোখে এমন কিছু পড়েনি।’