ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) জিহাদ গ্রুপের সোলায়মান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান মাতুব্বর গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনিও রক্তাক্ত জখম হন।
এ হামলায় পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও নটখোলা গ্রামের তারা মিয়ার নেতৃত্বে তাদের লোকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার জের ধরে রোববার বিকেলে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে এক পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মান্নান মাতুব্বর গ্রুপের লোকজনের সংঘর্ষ বাধে। ধুলজোড়া ব্রিজের কাছে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ পরে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া আহতদের অনেকে বোয়ালমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।