Image description

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক  (এসআই) গাজী কালাম জানান, গত দুই দিন ধরে অভিযান পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ফটিকছড়ির একটি বাসা থেকে তাকে ও পরিবারের সদস্যতের আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রামে অভিযান চালানো হয়।

ঘটনার শুরু ১৯ আগস্ট। ওই দিন থেকে পিন্টু দাসের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মুঠোফোনে কল করেও পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। একই সময়ে শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে না পারায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এরপর স্থানীয়ভাবে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।

এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

তবে এখানেই শেষ নয়, বরং নতুন করে সামনে এসেছে আরও কিছু প্রশ্ন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে হঠাৎ চাঁদপুর ছাড়ার প্রয়োজন কেন হলো? ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণ কী? মুঠোফোন বন্ধ করে তারা কেন যোগাযোগের বাইরে চলে গেলেন? এর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন, দেনা-পাওনা কিংবা অন্য কোনো বিরোধের সম্পর্ক আছে কিনা- এসব বিষয় এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পিন্টু দাসের আত্মগোপনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন- এমন তথ্যও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

আটকের পর পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পিন্টু দাস ও তার পরিবারের হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তাদের আটকের পর তার একটি অংশের অবসান হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন- কেন তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তের পরবর্তী ধাপে নজর থাকবে পুলিশের দিকে।