Image description

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমসের সিপাহি আবু রায়হান তালুকদারকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তারের পর জব্দ করা হয়েছে হত্যা ও মরদেহ গুমে ব্যবহার করা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

সহকারী পুলিশ সুপার এস এম হাসান ইস্রাফীল আজ বুধবার জানিয়েছেন এসব তথ্য। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. রাজু ও তার বন্ধু মো. জিতুল। হত্যার ঘটনার এক মাস পর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গত রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার রাজু হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যার পর রায়হানের বাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরদিন মরদেহ টুকরো করে ফেলে দেন পাশের জঙ্গলে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে আবু রায়হান তালুকদার (৪৫)। তিনি কাজ করতেন রাজধানীর কমলাপুরের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তরের সিপাহি হিসেবে। 

 

 

 

স্বজনরা জানান, সোয়াইতপুর গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন রায়হান ও তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম। নুরুলের বাড়িতে তাদের বৃদ্ধা মা থাকেন। বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। রায়হানের বাড়িটি খালি থাকত। প্রায়ই ঢাকা থেকে এসে ওই খালি বাড়িতে রাতে ঘুমাতেন তিনি। বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন আসামি মো. রাজু।  

তার বড় ভাই নুরুল জানালেন, গত ২৩ জুলাই রাতে রায়হান বাড়ি এসেছিলেন। দুই দিন থেকে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে ২৬ জুলাই নির্ধারিত দিনে কর্মস্থলে না ফেরায় সহকর্মীরা বাড়িতে ফোন করে খোঁজ নেন। স্বজনরা তখন বুঝতে পারেন, রায়হান নিখোঁজ। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

পরের দিন তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২ আগস্ট আশপাশে খুঁজতে গিয়ে বাড়ির পাশের জঙ্গলে চারটি ট্রাভেল ব্যাগ পায় পুলিশ। সেগুলো খুলে পাওয়া যায় মানবদেহের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ। স্বজনরা সেটি রায়হানের বলে শনাক্ত করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জিডি করার দিন থেকে খোঁজ নেই বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার এক বন্ধুর। ওই দুজনকে আসামি করে ৪ আগস্ট থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই নুরুল।

 

 

এরপর গতকাল রাতে মৌলভীবাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সহকারী পুলিশ সুপার ইস্রাফিল জানালেন, টাকা নিয়ে তর্কের জেরে ২৪ জুলাই রাতে রায়হানকে হত্যা করেন রাজু। ওই বাড়িতেই রাতে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরদিন মরদেহ টুকরো করে চারটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে খবর দেন বন্ধু জিতুলকে। দুইজন মিলে ব্যাগগুলো ফেলে দেন পাশের জঙ্গলে। 

তাদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, চাকু, লোহার রড, রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ বেশ কিছু আলামত।

হত্যার কারণ ও অন্যান্য বিষয় বিস্তারিতভাবে জানাতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার।