নেপালের রাশুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে বুধবার আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই বন্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শতাধিক পর্যটকও নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন বলে জানা গেছে ।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল অভিযান চালাচ্ছে।
তিব্বত সীমান্তবর্তী টিমুরে ও সিয়াব্রুবেশি এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। প্রবল পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যার কারণে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় নেপাল টেলিকম ও এনসেল গ্রাহকদের জন্য সাময়িক বিনামূল্যে মোবাইল সেবা চালু করেছে। দুর্গতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।
বন্যার প্রভাব নেপাল-চীন সীমান্তেও পড়েছে। নেপাল থেকে নেমে যাওয়া বন্যার পানি ও ভূমিধসে চীনের তিব্বতের গাইরঙ পোর্ট এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড বন্যাকবলিত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।