পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে অন্য এক রূপ ধারণ করেছে ব্যস্ততম রাজধানী ঢাকা। চেনা যানজট ঠেলে যেখানে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেখানে আজকের ঢাকা যেন একেবারেই শান্ত ও নীরব। সরেজমিনে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তায় যান ও পথচারীর সংখ্যা বেশ কম। অলিগলিতে নেই গাড়ির হর্ন বা যানজটের দীর্ঘ সারি, এমনকি ট্রাফিক সিগনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার কষ্টও পোহাতে হচ্ছে না চালকদের।
ছুটির এ আমেজ ও ফাঁকা রাজধানীর সৌন্দর্য নজর কেড়েছে কর্মজীবী নগরবাসীর। ধানমন্ডির রাস্তায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাজ্জাদ হোসেন বললেন, ‘ছুটির দিনের মতো ঢাকা শহর যদি সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও এমন ফাঁকা থাকত, তবে এই শহর অনেক বেশি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হতো।’
কল্যাণপুর থেকে বসুন্ধরায় যাওয়ার জন্য তিনি হাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় নিয়ে বের হলেও মাত্র আধাঘণ্টাতেই গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। জ্যাম না থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তার মতো অনেকেই।
তবে পুরো নগরীতে যখন ছুটির স্বস্তি, তখন এই ফাঁকা রাস্তা এক ভিন্ন চিত্র বয়ে এনেছে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য। বিশেষ করে রিকশাচালক ও গণপরিবহন শ্রমিকদের আয়ে পড়েছে বড় ভাটা। রাস্তায় যাত্রী না থাকায় দৈনন্দিন জমার টাকা ওঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। রিকশাচালক কবির আফসোস করে জানান, ‘আজ রাস্তায় মানুষজন একদমই কম। দিনটা ফাঁকা থাকায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়াই লস হয়েছে। দিন শেষে রিকশার জমার টাকাই উঠবে কি না সন্দেহ।’
যানজটহীন এই দিনে সাধারণ নগরবাসীর চলাচলে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি ফাঁকা রাজপথের এক কোণে ভিড় জমেছে ধর্মীয় উদযাপনের। শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও প্রধান সড়কে মাঝে মাঝেই দেখা মিলছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও গাড়ির বহরের। সাউন্ডবক্সে মিলাদুন্নবী সম্পর্কিত নাত ও গজল বাজিয়ে আনন্দ আর শ্রদ্ধায় দিনটি উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। একদিকের ফাঁকা রাজপথের স্বস্তি আর অন্যদিকের নিরবচ্ছিন্ন উদযাপন মিলে আজকের ঢাকা যেন এক ভিন্ন আবহে শ্বাস নিচ্ছে।