যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আনসারী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো একতরফা এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
এক সংবাদ সম্মেলনে মাজিদ আনসারী বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ বা কোনো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত, যারা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই কাতারের অগ্রাধিকার ছিল আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা। কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা চলছে, তাতে সব পক্ষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, চলমান সংকট থেকে বের হওয়ার কার্যকর পথ হলো সংলাপ।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে মাজিদ আনসারী বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি বন্ধের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ কাতারকে হুমকি দিলে তা মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে কাতারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি পুনরায় চালু, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির আল-উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এদিকে ইরানের দাবি, যুদ্ধের শুরুতে কাতারের বাহিনী তাদের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং তিনজন পাইলটকে আটক করেছে। আটক পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে ইরান।
সূত্র: বিবিসি বাংলা