Image description

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলার আসামি চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।  

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে মাজেদুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মন্ডল। 

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত। 

এর আগে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর ১৫ এপ্রিল আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। শুনানি শেষে মাজেদুলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত।  

 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি (পিস্তল) নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, উদ্ধার করা পিস্তল থেকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া কার্তুজ ও গুলি ছোড়া হয়েছিল।  

এছাড়া মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তদন্তে জানা যায়, পিস্তলটি ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি আমদানি করে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে পিস্তলটি বিক্রি করে দেয়।  

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আসামি মাজেদুল হক হেলাল। তার লাইসেন্সটি ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।  

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।  

ওসমান হাদি ‎হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এ অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।