ঝিনাইদহে দাফন করা আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে এসে দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে অপেক্ষায় আছেন তার ভাই ইমাল মোহাম্মদী।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনার অভাবে আটকে আছে লাশ উত্তোলনের আইনি প্রক্রিয়া।
এর আগে, গত ১০ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুরের ইছামতি নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে হাসমতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি।
পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন আনজুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে পরিবার নিশ্চিত হয়, নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের হাসমত মোহাম্মদী।
পরে মরদেহ নিয়ে যেতে গত ৬ জুলাই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে ঝিনাইদহে হাসেন হাসমতের ভাই ইমাল।
এদিকে গত ১১আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মরদেহ উত্তোলনের অনাপত্তি জানালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট চিঠি না পাওয়ায় জেলা প্রশাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছে না।
জেলা প্রশাসন জানান, বিদেশি নাগরিকের বিষয় হওয়ায় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র উভয় দপ্তরের আনুষ্ঠানিক চিঠি ছাড়ার লাশ হস্তান্তর সম্ভব নয়।
হোটেল কক্ষে দিন কাটানো কান্নাভেজা ঈমাল মোহাম্মাদী জানান, তার ভাই হৃদরোগে মারা গেছেন বলে ময়নাতদন্তে এসেছে। তারা শুধু নিজ দেশের মাটিতে ধর্মীয় রীতিতে ভাইকে দাফন করতে চান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংকেত পেলেই অতি দ্রুত লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’