Image description

পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব হয়েছেন ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড পেয়ে পলাতক থাকা মো. ইমরুল কায়েস সুমন। আদালতের দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিকে দলের পদ দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গত ৬ আগস্ট আসামি ইমরুল কায়েস সুমনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন পাবনার ১ম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম. সারওয়ার জাহান। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

পাবনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী মুক্ত অবস্থায় থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলেও জরিমানার ৫০ শতাংশ টাকা আদালতে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও গত ১৬ আগস্ট ইমরুল কায়েস সুমনকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব পদে মনোনীত করা হয়। সুমন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু অভিযোগ বলেছেন, ‘আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে দলীয় পদে বসিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। শুধু তাই নয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দলীয় বৈঠকে নিয়ে দলের হাইকমান্ডকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।’

এদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী পৌর শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছেন তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল কায়েস সুমনের পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ইমরুল কায়েস সুমন বলেছেন, ‘বাদীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ও দেনা-পাওনা ছিলো। ইতোমধ্যে সেটি সমাধানে আলাপও হয়েছে। এরমধ্যে মামলার ডেট পড়ে, যেটি আমি বা আমার আইনজীবীর স্মরণ ছিলো না। ফলে পলাতক উল্লেখ করে রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টিও আমার জানা ছিলো না। এখন শুনতেছি। আইনগতভাবে দ্রুতই এটির সুরাহা করা হবে।’

 

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেছেন, ‘আল্লাহর ফেরেশতা দিয়ে কমিটি করলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিভিন্ন মিছিল মিটিং হয়। সুমনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই। কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগও করেনি। দণ্ডপ্রাপ্ত তো তারেক রহমান, খালেদা জিয়াও ছিলেন। মামলা ষড়যন্ত্রমূলক কিনা সেটা আগে দেখতে হবে।’

 

তিনি দাবি করেন, ‘নিয়ম মেনে যোগ্যদের দিয়েই কমিটি করা হয়েছে। তবে আইনগতভাবে কেউ দন্ডপ্রাপ্ত হলে গঠনতন্ত্র অনুসারে দলের নেতৃত্বে তার আসার সুযোগ নেই।’