Image description

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল বউ-ভাত। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কনের বাড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হয়েছিল গায়ে হলুদের। সেই হলুদে এসেছিলেন বর। তবে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন বর। নতুন বিয়ের পুরো আনন্দ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে, দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।

এদিকে বর ও কনে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় দুইদিন আগেই চুপিসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনে বরের বাড়িতে না গেলেও হয়েছেন বিধবা। এতে এক পরিবারে ছেলে হারানোর শোক, অন্য পরিবারে সদ্য বিবাহিত কনের স্বামী হারানোর শোক চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিহত বর মাহিন রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আর কনে মিফতাহ’র বাড়ি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতি রান্নার হাড়ি-পাতিল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। খালি পড়ে আছে বরের বসার স্থান। দাওয়াতি মানুষকে বসানোর জন্য আনা প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোও বিছানো হয়নি।

 
 
 

নিহত বরের এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির জানান, গায়ে হলুদ থেকে ফেরার পথে এক কিশোর মারা গেছেন। তার বয়স কম ছিল। দুই দিন আগেই তার বিয়ে হয়েছিল। এরপরও আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। সেখানে ছেলেটি অংশগ্রহণ করে। রাতে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেটি মারা যান। তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।

 
 

কনের মামা জাহেদুন সোহেল জানান, তার ভাগনির গত রাতে গায়ে হলুদ ছিল। সেখানে বরও আসে। কিন্তু রাতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বর মারা যান। সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় বেড়ির মাথা-মোল্লারহাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

তিনি আরও জানান, বর ও কনের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর। এজন্য দুইদিন আগেই তাদের বিয়ে হয়। রোববার বউ-ভাত ছিল। শনিবার রাতে গায়ে হলুদে সবাই আনন্দে মেতে উঠেছিল। কিন্তু হলুদ শেষে সব আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের খবর শুনেছি। তবে মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে, সেই খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘটনাও জানা নেই।