এক-এগারোর সময় আলোচিত কারা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী আবারও নিজের পুরোনো কর্মস্থলে ফিরছেন। তবে কোন পদে তিনি যোগদান করবেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শামসুল হায়দার সিদ্দিকীকে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা আগে সামনে এলেও বর্তমানে তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবটিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
এ বিষয়ে শামসুল হায়দার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, আইজি প্রিজন আমাকে ফোন করেছিলেন। আগামী রোববার সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোচনা শেষে আমার সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন বলেন জানিয়েছেন।
কোনো নির্দিষ্ট পদ কিংবা দায়িত্বের বিষয়ে আলাপ হইনি জানিয়ে তিনি বলেন, আগে আলোচনা হোক। তারপর বুঝতে পারবো। সরকার কোনো দায়িত্ব দিলে পালন করার চেষ্টা করবো।
এর আগে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা সামনে এলেও এখন তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবই এগিয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক পদে দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এই দায়িত্ব পালন করা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেনকে সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাকে ফিরিয়ে পর নতুন আইজি প্রিজন নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর নামও সামনে আসে। তাকে সরাসরি মহাপরিদর্শক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পর্যালোচনাও হয় বলে জানা যায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, কারাগারের মতো স্পর্শকাতর একটি বিভাগে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও মানবিক একজন কর্মকর্তার পরামর্শ কাজে লাগাতে চায় সরকার। শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর দীর্ঘ কারা প্রশাসনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই তাকে এই দায়িত্বে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী এক-এগারোর সময় কারা অধিদপ্তরের দায়িত্বে থেকে আলোচনায় আসেন। ওই সময় রাজনৈতিক বন্দিদের পাশাপাশি সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সাব-জেলে বন্দি থাকাকালে কারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেল কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে ঢাকা বিভাগ থেকে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তর থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি সরকারি বিল্ডিং ট্রেডস-এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।