Image description

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাও বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

বিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং সংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। আর নেপাল ও ভারত থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।

চলতি বছরের মে মাসে দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। তবে উৎপাদনের রেকর্ডের পাশাপাশি চলতি বছর লোডশেডিংয়ের দিক থেকেও গত কয়েক বছরের মধ্যে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট এক দিনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে চলতি গ্রীষ্মে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থাৎ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কাগজে-কলমে চাহিদার চেয়ে বেশি থাকলেও প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে প্রাথমিক জ্বালানির সংকটকে সামনে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানিতে সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বাড়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

কীভাবে তৈরি হলো এই সংকট?
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়েনি। কয়লা উত্তোলনও বাড়ানো হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বেড়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে তেলভিত্তিক ও আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ আইন করে বেসরকারি খাতে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও করা হয়। এর ফলে উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও পরবর্তী সময়ে সেই সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি, ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, আমদানি-নির্ভরতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার যথেষ্ট না হওয়া সব মিলিয়ে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বলেন, ‘অতীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ক্যাপাসিটি পেমেন্টসহ বিভিন্ন ব্যয় বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও বাড়তে থাকে।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলমের বিশ্লেষণেও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়বহুল জ্বালানি, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, আমদানি নির্ভরতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সীমিত ব্যবহারকে সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটই বড় বাধা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসের ঘাটতি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে বড় বাধা তৈরি করছে।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শিল্প ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। 

ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও সেগুলো চালানোর মতো জ্বালানি না থাকায় সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একই কারণে শিল্পকারখানাগুলোও বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

তাহলে সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, সঞ্চালন, বিতরণ, আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

স্বল্পমেয়াদে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে পুরো সক্ষমতায় চলছে না, সেগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস ও আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমানোও জরুরি।

সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ধীরে ধীরে গ্যাসনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থায় যেতে হবে। শিল্পে গ্যাসভিত্তিক বয়লারের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বয়লার, ডিজেলচালিত যানবাহনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক যান এবং ডিজেলচালিত সেচের পরিবর্তে সৌরভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

এতে একদিকে জ্বালানি ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন হবে, অন্যদিকে আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপও কমানো সম্ভব হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। অথচ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ এবং সৌরচালিত সেচের মতো প্রকল্প বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থার উন্নয়ন করলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ, যৌথ বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট মাইক্রোগ্রিডকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানিও হতে পারে সমাধান
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। তবে আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা আরও বাড়ানো গেলে প্রয়োজনের সময় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আনার সুযোগ বাড়বে।

বিশেষ করে নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ এবং ভারতের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে আরও বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশের শিল্প ও অন্যান্য খাতের চাহিদা পূরণে তা সহায়ক হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি চুক্তির মূল্য, ট্যারিফ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ থাকলে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়াতে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

আদানি চুক্তি নিয়ে বিতর্ক
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, চুক্তির শর্ত ও বিদ্যুতের ট্যারিফ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘আদানির সঙ্গে আলোচনা করে ট্যারিফ কমানোর চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে নেপাল বা ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অন্যান্য জ্বালানি উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি আমদানির সুযোগও বিবেচনা করা যেতে পারে।’

বিদ্যুৎ খাতকে সেবামুখী করার প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো: বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সংস্কার। তাদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়িয়ে সংকটের সমাধান হবে না; উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং ব্যয় কমাতে হবে।

ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফাকেন্দ্রিক খাতের পরিবর্তে সেবামুখী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। প্রকৃত ব্যয় ও যৌক্তিক রাজস্বের ভিত্তিতে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে খাতটির আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব।’

দুই বছরের পরিকল্পনা কতটা কাজে আসবে?
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপও জরুরি। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাজে লাগানো, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানো এবং গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট কেবল উৎপাদন সক্ষমতার সংকট নয়; এটি মূলত জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি নির্ভরতা, আর্থিক চাপ, পরিকল্পনার দুর্বলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সমন্বিত ফল। তাই নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বদলে বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং পুরো খাতের কাঠামোগত সংস্কার এসব দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।