Image description
 
খুব বেশিদিন আগে নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরের ঘটনা। দুই বছর হতে এখনো কিছুদিন বাকী। এরমধ্যেই ১৮০ ডিগ্রী পল্টি।
বলছিলাম গুমের ঘটনা জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত চেয়েছিল বিএনপি।
 
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দলটির উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব এই দাবী জানিয়েছিলেন।
আসুন এখন দেখি ক্ষমতায় আসার পর কি অবস্থান নিয়েছে।
 
গুমের বিষয়ে বিচার চাওয়া বা বিচারের জন্য দেশে সুস্পষ্ট কোন আইন ছিল না। ২০২৪ সালের আগষ্ট বিপ্লবের পর ড ইউনুসের দুর্বল সরকার যে ক’টি ভালকাজ করেছিল তার মধ্যে একটি ছিল গুমের বিচারে একটি আইন প্রণয়ন। অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকরও করা হয়েছিল। গুমের ঘটনা ঘটলে স্বাধীনভাবে তদন্তের বিধান রাখা হয়েছিল আইনে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অধ্যাদেশ চুড়ান্ত আইন নয়। সংসদ না থাকলে বা সংসদ আছে তবে অধিবেশন নেই এমন অবস্থায় আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করা যায়। তবে শর্ত হচ্ছে পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যে অধ্যাদেশকে সংসদ অনুমোদন করলে সেটা আইন হিসেবে বহাল থাকে। নতুবা বাতিল হয়ে যায়।
 
ড ইউনুস সরকারের সময় সংসদ ছিল না। তাই অনেক গুলো আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা হয়েছিল।
এরমধ্যে একটি ছিল গুমের তদন্ত ও বিচারের লক্ষ্যে প্রণীত আইন।
 
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি অনুমোদন করেনি। আইনটি বাতিল হয়ে গেছে। তখন এনিয়ে সমালোচনা হলে সরকারের আইনমন্ত্রী বলেছিলেন এই আইনে দুর্বলতা আছে। তাই আরো ভাল আইন তৈরি করবে সরকার। বেশ সুন্দর বয়ান। হুনতে ভালই লেগেছিল।
এখন আরো ভাল আইনের খসড়ায় দেখা যায় তদন্ত করবেন তারাই যারা গুম করে।
 
্যাসিবাদ আমলে গুম করতো রাষ্ট্রীয় বাহিনী। সাদা পোশাকে ডিবি, র্যাব ডিজিএফআই’র বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ। এজন্য সাবেক অনেক সেনা কর্মকর্তা এখন বিচারের কাটগডায়।
গুম যদি র্যাবের সদস্যরা করে এবং তদন্তও যদি তারাই করে তাহলে কি ভিকটিম পরিবার বিচার পাবে??? আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় হাজারো মানুষ গুম করা হয়েছে। একটা ঘটনারও কি তদন্ত হয়েছে?? বিচার তো আরো অনেক পরের বিষয়!
 
এজন্য ড ইউনুস সরকারের প্রণীত আইনে স্বাধীনভাবে মানবাধিকার কমিশনকে গুমের তদন্তের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান সরকার আরো ভালো আইনের মূলা ঝুলিয়ে এখন শৃগালের কাছেই মোরগ জিম্মায় রাখার আইন করছে।
 
আরে ভয়াবহ বিষয় হল, যারা গুমের অভিযোগ করবেন, অর্থাৎ ভিকটিম পরিবার সেটা প্রমাণ করতে হবে। প্রমান করতে না পারলে অভিযোগকারীর শাস্তি ৫ বছরের জেল!
ধরুন শেখ হাসিনা যামানার মত র্যাব বা ডিবি কাউকে গুম করলো। অভিযোগ করার পর র্যাব বা পুলিশ তদন্ত করবে। তদন্ত করে তারা কিছুই পাওয়া যায়নি বলে একটা রিপোর্ট দিল। তখন অভিযোগকারী ভিকটিম পরিবারের সদস্যকে ৫ বছর উল্টা জেল খাটতে হবে!
 
আচ্ছা বলুন তো, শেখ হাসিনা আমলে একটা গুমের ঘটনা কি প্রমান করা গেছে!
কেন প্রমান করা গেল না! পুলিশ বা র্যাব তদন্ত করে না। অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে।
বিএনপি কি হদাই জাতিসংঘের অধীনে গুমের তদন্ত দাবী করেছিল!!
 
অথচ, এখন এই দলটি গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব গুমের সাথে জড়িতদের দিয়ে আইন করতেছে। উল্টা অভিযোগকারীর শাস্তির বিধান রেখে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। কারো পরিবারের সদস্যকে পুলিশ-র্যাব বা ডিজিএফআই গুম করলে তখন ৫ বছরের শাস্তির ভয়ে কেউ কি অভিযোগ করতে যাবে??!!
 
আল্লাহ এই জাতিকে এরকম প্রতারণার হাত থেকে রেহাই দিন——-
জাতিসংঘের অধীনে গুমের তদন্ত চেয়ে বক্তব্যের একটি নিউজ লিংক নিচে দিলাম। আমরা আশা করি তাদের এই দাবী এখন তারা পূরণ করার সুযোগ এসেছে।