দেশের অনেক এলাকায় কৃষিজমির মাটির পিএইচ (অম্লত্ব) ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে নেমে এসেছে। ভালো ফসল উত্পাদনের জন্য যেখানে মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন, সেখানে এই মাত্রা উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত বালাই নাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে বিএআরসির গভর্নিং বডির ৬ষ্ঠ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় কৃষি এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ বিষয়ে কথা বলেন।
মাটি ও কৃষি উত্পাদনের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। মাটির পিএইচ (অম্লত্ব) মাত্রাও উদ্বেগজনক। বর্তমানে অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে। অথচ ভালো ফসল উত্পাদনের জন্য মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে উন্নীত করা গেলে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন আরো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ থাকবে।
অতিরিক্ত বালাইনাশকে কৃষিতে পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাই পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনের সঙ্গে মাটির গুণমানের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে উন্নীত করা গেলে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন আরো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভায় কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উত্পাদন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মাংস উত্পাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ খাতে উত্পাদন আরো বাড়াতে গবেষণার পরিধি ও কার্যক্রম বাড়াতে হবে। উত্পাদন বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
গবেষণার ফলাফল নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়মিতভাবে অনুসরণ ও নিশ্চিত করতে হবে। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও নানা ধরনের উদ্ভাবন করছে। এসব উদ্ভাবন কীভাবে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।