Image description

খুলনার শহরতলি রূপসায় হঠাৎ করেই টার্গেট কিলিং উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, পূর্ব শত্রুতা, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে আধিপত্য নিয়ে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনায় পুলিশের কাছে আগাম কোনো তথ্য থাকে না। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দৌড়ঝাঁপ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়াটে খুনিরা ধরা পড়ে না।

গত এক সপ্তাহে রূপসায় যুবদলকর্মীসহ দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গুলি করা হয় মামুন মীর নামে আরেক যুবককে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ মার্চ রাতে খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে রূপসা শ্রমিক দল আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। একইভাবে ২০২৫ সালে ১৮ ডিসেম্বর পূর্ব রূপসায় সন্ত্রাসী সাগর শেখ এবং ৩০ নভেম্বর আদালতপাড়ায় ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিফ হাওলাদার নামে দুই যুবককে গুলিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশির ভাগ টার্গেট কিলিংয়ে ভাড়াটে খুনি অংশ নেয়। সোর্স (ইনফরমার) না থাকায় খুনিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে আগাম কোনো তথ্যও থাকে না। ফলে ঘটনাস্থলে সদলবলে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান ও নির্বিঘ্নে খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে খুনিরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর পুলিশের ব্যাপক রদবদল ও নিরাপত্তা শঙ্কায় সোর্স কমে গেছে। কোনো কোনো থানায় সব অফিসার বদলি হওয়ায় আস্থার অভাবে অনেক সোর্স নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে অপরাধের গোপন তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ের অপরাধী শনাক্তকরণ কাজে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আগের মতো ইনফরমারদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে অস্ত্রধারী অপরাধীর মুভমেন্ট জানা যায় না। মাঠ পর্যায়ের কাজে এ ধরনের জটিলতা আছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় অপরাধীর অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছে। জানা যায়, ১৫ আগস্ট রাতে সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বে রূপসার দুর্জনীমহল গ্রামে জয় ঢালী নামে যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বে খুন হয়েছে বলে দাবি করলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। 

তবে ১২ আগস্ট রাতে রূপসার ইটভাটায় যুবদলকর্মী ফখরুল শেখ হত্যায় ইব্রাহিমকে ১৬ আগস্ট যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৬। হত্যা মিশনে ইব্রাহিম ও আবদুর রহমান অংশ নেয়। সারাদিন আবদুর রহমান মোটরসাইকেলে ফখরুলের সঙ্গে ছিল। রাতে ইটভাটায় ইব্রাহিম প্রথমে ফখরুলকে গুলি করে। পরে রহমান পিস্তল দিয়ে ফখরুলের মুখে গুলি চালায়। আবদুর রহমান পলাতক রয়েছে।