প্রায় তিন যুগ পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকেই ভোট দিতে পারবেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রার্থী হলেও নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হলেও তিনি ভোট দেওয়ার অধিকার রাখছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তাকে প্রার্থী করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সংসদ সদস্যদের থাকায় প্রার্থী হয়েও তিনি নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৯০।
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং তিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
একই অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তাঁর বয়স ৩৫ বছরের কম হয়, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনি কর্তা হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনি কর্তা এতে সভাপতিত্ব করবেন।
সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আর সংসদের অধিবেশন না থাকলে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কোনো প্রার্থীরই নিজের ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই বিরল সুযোগ পাচ্ছেন।