Image description

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ নানা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৭ ঘণ্টায় ৪৬৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা পর্যন্ত এআই ক্যামেরায় এসব অপরাধ শনাক্ত হয়।

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকার ‘এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টার’-এর ইনচার্জ মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, প্রথম দিন মঙ্গলবারে অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ছিল ঘণ্টায় ৮০-৮৫ কিলোমিটার, যা বুধবার বাড়িয়ে ৯০ কিলোমিটার করা হয়। প্রথম দিনে মামলা হয় ৪৪৬টি, যার অধিকাংশই ছিল গতিসীমা লঙ্ঘনের অপরাধে। প্রথম দিনের অভিযানের পর চালকরা সতর্ক হওয়ায় দ্বিতীয় দিন বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নতুন করে মাত্র ১৮টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মেঘনাঘাট এলাকায় মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

 

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটারে রয়েছে ১৯৯টি ক্যামেরা, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম।

 

ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে যাবে এবং জরিমানার তথ্য যুক্ত করে গাড়ির মালিকের মোবাইলে বার্তা পাঠানো হবে। মালিকরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

 

নিয়মিত যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীরা জানান, এআই ক্যামেরা চালু হওয়ায় মহাসড়কে চালকদের মধ্যে অনিয়ম কমানোর তাগিদ দেখা গেছে। তবে সার্বিক দুর্ঘটনা কমাতে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তারা।

 

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, কেবল জরিমানা আদায় নয়, মহাসড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে ইতোমধ্যে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।