Image description

গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে এখন টিভির সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরের লেখা পুরোনো একটি পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘‘এতোদিনের যারা সিনিয়র সাংবাদিকের রিপোর্ট খুজতেছিলেন, এই লন!! পৃথিবীর সবচেয়ে সিনিয়র সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় বাই-লাইন রিপোর্ট।’’

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘‘জিয়ার কথায় উর্দুর টান ছিলো - শামসুর রাহমান’’। নিচে প্রতিবেদক হিসেবে আনিস আলমগীরের নাম রয়েছে। প্রতিবেদনটি সাপ্তাহিক খবরের কাগজ এর ২ জানুয়ারি ১৯৯২ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনটি মূলত ‘গণঅভ্যুত্থান '৯০’ শীর্ষক একটি সেমিনারে কবি শামসুর রাহমানের দেয়া বক্তব্যের ওপর লেখা। ওই বক্তব্যে শামসুর রাহমান বলেনে, “জিয়াউর রহমান বাংলায় কথা বলতে পারতেন না। তার ভাষায় উর্দুর টান ছিলো। তিনি যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রচার করেছিলেন তা হচ্ছে পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদের আদল। বাঙালী জাতীয়তাবাদকে তিনি একদম সহ্য করতে পারতেন না।”

সাধারণ একটি সেমিনার কভার করা প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নাম ব্যবহারের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক ভাব প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক বেলায়েতের ফেসবুক পোস্টে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বেলায়েতকে উদ্দেশ্য করে ‘দৌলতদিয়া পল্লীতে জন্ম নেয়া’ হিসেবে কটুক্তি করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। পাশাপাশি বেলায়েতের ফেসবুক আইডির ইনবক্সে গিয়ে তার মাকে জড়িয়ে নোংরা গালাগালি করেছেন আনিস।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ২ মিনিটে সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইনের ফেসবুক ইনবক্সে পৃথক ৩টি মেসেজ পাঠান আনিস আলমগীর।

এসব মেসেজের স্ক্রিনশট দ্য ডিসেন্ট এর সাথে শেয়ার করেছেন বেলায়েত হোসাইন।

তাতে দেখা যায় আনিস আলমগীর লিখেছেন, ‘‘তোমার মত বহু বে***র ছেলে আনিস আলমগীকে দিয়ে আলোচনায় আসতে চায়। তুমি যেটা নিয়ে আলোচনা করছ সেটা ৯০ দশকে এক স্লিপ বলে একটা সাংবাদিকতা ছিল। এক ছোট কাগজের টুকরো একটা রিপোর্ট। সাপ্তাহিক পত্রিকা গুলোতে যেত। ১০০ টাকা বিল। তোদের মত বে***র ছেলেরা আছে বলেই তো ফেসবুকে অনেক বিনোদন পাওয়া যায়।’’

অবশ্য পরে ওই মেসেজগুলো ‘আনসেন্ড’ করেছেন আনিস। 

নিজের মাকে জড়িয়ে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের কাছ থেকে এমন নোংরা বক্তব্য মেসেজে পাওয়ার পর বেলায়েত সেটির প্রতি-উত্তরে ইনবক্সেই লিখেছেন, ‘‘আমি চাইলেই আপনার দেয়া গালির বিপরীতে গালি দিয়ে রিপ্লাই দিতে পারতাম। আমি ইচ্ছে করেই অপেক্ষা করেছি। আপনিও তো মানুষ। আপনিও তো কোনো মায়ের সন্তান। মা ধরে গালি দেয়া যে ঠিক না, অন্যায়- সেটা উপলব্ধি করার সময়টা আপনাকে আমি দিয়েছি। আপনি হয়তো উপলব্ধি করেছেন এবং আমার মাকে দেয়া গালির মেসেজগুলো আনসেন্ড করেছেন। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।”

তিনি আরও লিখেছেন, “আপনারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। ধরে নিলাম- আপনার একটি রিপোর্টকে আমি সমালোচনা করেছি, স্যাটেয়ার করেছি। সেজন্য আপনি মা তুলে গালি দিবেন? আপনি চাইলেই সুন্দর ভাষায়, অথবা বিদ্রুপের ভাষায় এটার কাউন্টার দিতে পারতেন।  যার যোগ্যতা যত বেশি, সে তত উত্তম ভাষায় জবাব দেয়। কাউকে গালি দেয় না। অথবা, আপনার কথা অনুযায়ী আপনাকে নিয়ে লিখে আমি আলোচনায় আসতে চাই। সেটাই যদি মনে করেন- তাহলে তো আপনি আমাকে এড়িয়ে যেতে পারতেন। তা না করে আপনি ডিরেক্ট মা তুলে গালি দিলেন। তার মানে কি আপনিও চান, আপনাকে নিয়ে আলোচনা হউক? আমি আপনার একজন জুনিয়র। একজন ক্ষুধে রিপোর্টার। দোয়া করবেন বড়ভাই।’’

এরপর রাত ২টা ১৩ মিনিটে আনিস আলমগীর বেলায়েতকে ইঙ্গিত করে আক্রমাণাত্মক ভাষায় পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তাকে ‘দৌলতদিয়া পল্লীতে জন্ম নেওয়া সন্তান’ বলে কটুক্তি করেন আনিস।

এ বিষয়ে সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘ফেসবুকে উনার এই রিপোর্টটি দেখে আমি এটা নিয়ে একটা স্যাটায়ার পোস্ট দিয়েছিলাম। এরই প্রেক্ষিতে উনি আমাকে ফেসবুক ইনবক্সে মাকে তুলে গালি দিলেন। আমি উনাকে একটা রিপ্লাই দিলাম দিয়েছি। যদিও উনি ওটা সিন করেননি।’’

এই ব্যাপারে আনিস আলমগীরের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। টেক্সট দেয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।