ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহীদুজ্জামানের একটি টেলিভিশন টকশোর বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
গত ১৭ আগস্ট আনিস আলমগীর লিখেন, ‘‘টকশোতে মারামারি করা ড. শহীদুজ্জামান নামের এক ‘পাকিস্তানপ্রেমী’ উন্মাদ মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে গতকাল একটা টকশোতে বলেছেন, 'রাতের বেলায় তারেক জিয়ার বাসায় প্রচন্ড ঝগড়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন- এমন হুমকি নাকি তিনি দিয়েছেন।' সেজন্য ভারত না যাওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার বলছেন, 'খলিল এটা অস্বীকার করেছেন। আবর্জনা। আমি এর সত্য মিথ্যা কিছুই জানি না। কোন মিডিয়ার সংবাদেও দেখি নাই। তিনি কোথায় এই সংবাদ পেয়েছেন? আপনাদের কী মনে হচ্ছে- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুমকির কারণেই কি প্রধানমন্ত্রী আপাতত ভারত সফর বাতিল করেছেন?”
পোস্টটির ভাষ্য থেকে মনে হতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর বাসায় তর্ক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের হুমকির বিষয়টি ড. শাহীদুজ্জামান নিজেই দাবি করেছেন।
একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় আওয়ামী লীগপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মাসুদা ভাট্টির একটি ইউটিউব ভিডিতেও।
সিনিয়র সাংবাদিক এনায়েত করিমের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, “গতকাল বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন টকশোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক দাবি করেছেন যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসায় গিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে হম্বিতম্বি করেছেন এবং বলেছেন তিনি পদত্যাগ করবেন যদি তারেক রহমান ভারত সফরে যান।”
মাসুদা ভাট্টি ওই শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বর্ণনার সঙ্গে আগের দিন চ্যানেল ২৪-এর টকশোতে অংশ নেওয়া ড. শাহীদুজ্জামানের বক্তব্যের মিল রয়েছে।
তবে, টকশোতে দেওয়া বক্তব্য যাচাই করে দেখা যায়, এটি ড. শাহীদুজ্জা্মানের নিজের মন্তব্য নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসায় ঝগড়া হয়েছে—এমন প্রচারণা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি এটি যে সত্য নয় তা যাচাই করে দেখেছেন বলেছেন।
১৬ আগস্ট মাহমুদুর রহমান মান্নার সঞ্চালনায় চ্যানেল ২৪-এর ‘মুক্তবাক’ অনুষ্ঠানে ড. শাহীদুজ্জামান এ বিষয়ে কথা বলেন।
সেখানে তিনি বলেন, “ভারতীয় মিডিয়া কিন্তু এরকম একটা প্রচার চালাচ্ছিল, আমাদের বাংলাদেশি একজন প্রো-আওয়ামী লীগ জার্নালিস্ট, তৌফিক মুশফিক—এ ধরনের নাম, যে খুব, মানে, রাতের বেলায় তারেক জিয়ার বাসায় খুব, মানে, প্রচণ্ড তর্ক হয়েছে এবং ড. খলিলুর রহমান নাকি হুমকি দিয়েছে, যদি আপনি ভারতে যান তাহলে আমি পদত্যাগ করব।”
এর পরপরই তিনি ওই তথ্যকে নাকচ করে বলেন, “একেবারে ডাহা মিথ্যা কথা। আমি সরাসরি ড. খলিলের কাছে জিজ্ঞেস করেছি এবং উনি আমাকে লিখে দিয়েছেন যে, ‘টোটালি গার্বেজ, ডোন্ট এভার বিলিভ দিস সর্ট অফ প্রপাগান্ডা।’”
অর্থাৎ, টকশোতে ড. শাহীদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর বাসায় তর্ক বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের হুমকির ঘটনাকে সত্য বলে দাবি করেননি। বরং এমন একটি প্রচারণা ছড়ানোর কথা উল্লেখ করে সেটিকে মিথ্যা বলে বর্ণনা করেছেন।
ড. শাহীদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছিল।
তবে এ বিষয়ে গুগলে বাংলা ও ইংরেজিতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ড. শাহীদুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমি ইন্ডিয়ান মিডিয়াতে দেখেছি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি।”
কোনো নির্দিষ্ট সূত্র জানতে চাইলে তিনি সাজ্জাদ কাদির এবং মারুফ তৌফিকদের বলতে শুনেছেন বলে জানান।
এছাড়াও, এক ফেসবুক পোস্টে ড. শহীদুজ্জামান লিখেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কে নিয়ে আওয়ামি কিছু আতেল ঊর্বর মস্তিষ্ক, যেমন ঝুলে পরা মোচওয়ালা সাইফুল, বিনয়ী রূপকথা কথক সাজ্জাদ কাদের এখন নতূন ভূতের-কথা প্রচারে নেমেছে যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃখলিল তাদের চোখে ভিলেন। প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে চেয়েছিলেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাধায় নাকি যাননি। অথচ বাস্তবতা হলো, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর নিজের। তার ওপর কতৃত্বের অধিকার একমাত্র তার স্ত্রীর তবে সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। ডঃ খলিল প্রধান মন্ত্রীর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাভাজন সম্পর্ক রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন।”
তবে, এই নামের ফেসবুক বা ইউটিউব অ্যাকাউন্টগুলোতে এ ধরণের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ধরণের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আনিস আলমগীরের পোস্টের কথা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ড. শাহীদুজ্জামান দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘‘আমি তো বলিনি এটা আমার মন্তব্য, আমি কোট করেছি। তিনি (আনিস আলমগীর) স্বাভাবিক মানুষ নন।’’