Image description

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল আমরা দেখেছি। ১৯৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল আমরা দেখেছি। ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা ও বিগত ১৭ বছর তাদের ভূমিকাও দেখেছি। ১৭ বছরে জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখিনি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে যে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। আজ যারা বড় বড় কথা বলছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা বিগত ১৭ বছর রাজপথে দেখিনি।’

আজ রবিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কি করেছে।’

‘সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করবে সেদিকে নজর রাখতে হবে’— যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সন্মানী দেন তিনি। এ ছাড়া অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক এবং একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে সঠিকভাবে গড়তে না পারলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে না পারলে কখনোই দেশ গড়তে পারব না।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি এ দেশের জনগণকে ঘিরে, এই দেশের জন্য। আমাদের লক্ষ্যই মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করা। যে রাজনীতি আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে সেটিই আমাদের রাজনীতি। যেই রাজনীতি আপনাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে, যে রাজনীতি শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিবে, অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে, সেটিই বিএনপির রাজনীতি।’

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন কর্মসূচি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সন্মানী প্রদান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ প্রভৃতি কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে তারা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, কলকারখানা তৈরি করতে হবে, বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ফ্যামিলি কার্ডের পর শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এক দিনের কিশোরগঞ্জ সফর শেষ হয়।