Image description

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও তিনজন মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭০ জনে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮০৫ জন। চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ২৩ হাজার ৯৭৮ জন।

আজ রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮০, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১২, খুলনা বিভাগে ৯৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, রংপুর বিভাগে সাত ও সিলেট বিভাগে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

তথ্য অনুসারে, চলতি মাসে মারা গেছে ১৬ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৬৬৮ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চলতি বছরে এ যাবত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন মোট ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৭৪৯ জন।

এ ছাড়া, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন। মারা গেছেন ৪১৩ জন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মোট মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

 

 

বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এডিস মশার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়। সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাতে বাসস জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সারা দেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি, বাউল গানের মাধ্যমে প্রচারণা, সপ্তাহে একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি মিটিং, উঠান বৈঠক এবং জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত, রিএজেন্ট ও টেস্টিং কিট সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মশাবাহিত এই রোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সাতটি সিটি করপোরেশন। নিজ নিজ এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় পৃথক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে তারা।

 

 

এবার প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুর ও সংগীতভিত্তিক ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যার ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল পরিদর্শনের সুযোগ পান না। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া সবার দায়িত্ব। করোনাকালে যেমন সবাই একযোগে কাজ করেছে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।