জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকা সমঝোতা সভা থেকে ওয়াক আউট করেছেন ছাত্রশক্তির নেতারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কনফারেন্স রুমে এ সভা হয়।
জানা গেছে, সভা শুরুর পরপরই ওয়াক আউট করে চলে যান জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আবারও সভায় যোগ দেন তারা।
ছাত্রশক্তির নেতাদের অভিযোগ, সভায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছাত্রশক্তি ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
জবি ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘আজকে সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সভায় ডাকা হয়েছিল। আমরাও সেখানে গিয়েছিলাম। উপস্থিত হয়ে দেখি, সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা, তাদের মূল সংগঠনের নেতা ও এমপিরাও ছিলেন। কিন্তু ছাত্রশক্তিকে এসব বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা স্থানীয় পর্যায়ের কাউকেও বলা হয়নি। এজন্য আমরা বের হয়ে আসি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আবার সভায় যোগ দিই।’
জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের বলেছিল, দুজন—প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি—আসবা। আমরা সেইভাবেই এসেছি। কিন্তু এসে দেখি, এখানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মী সবাইকে নিয়ে আসছে। স্থানীয় অনেক লোক, বিএনপিপন্থী ও ছাত্রদলপন্থী অনেককেও নিয়ে আসা হয়েছে। এটা দেখে আমি স্যারকে বললাম, “স্যার, আমাদের কাউকে তো এটা বলেননি। তো স্যার যেখানে আমাদের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপিকে ডাকেননি, তাহলে স্যার, আমি এই মিটিংটা কন্টিনিউ করতে পারব না। ছাত্রশক্তি এই মিটিং থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।” এটা বলেই মূলত বের হয়ে যেতে চাই। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আবার সভায় যোগ দিই।’
এর আগে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই সমঝোতা সভার বিষয়ে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানস্থল কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসের কনফারেন্স রুমে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুরান ঢাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।