রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ভোজে গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে জবাই করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে হওয়া এ আয়োজন ঘিরে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬৫০ শিক্ষার্থীর জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়েছে। নিবন্ধন ফি রাখা হয়েছে ১৫ টাকা।
এর আগে গতকাল রাতে সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে বাকশাল। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ থাকবে।’
এরপর মধ্যরাতে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাহউদ্দিন আম্মার বলছি। লীগের আগুন ধরাইতে যে মজা গো।’
এ দিকে শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ আয়োজনকে রাকসুর উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে অনেকে আয়োজনটির উদ্দেশ্য, রাকসুর নাম ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কৌশিক দাশ কংকন নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে রাকসুর নাম ব্যবহার করে গরু কুরবানি করছে। ছেলেমেয়েদের টাকা এভাবে নষ্ট করার এখতিয়ার তাকে কে দিল।’
নিশা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘অথচ হলের খাবারের মান আগের মতোই আছে। ইন্টারনেটের বেহাল দশা। আবাসিক সমস্যার নেই কোনো সমাধান। এই হলো আমাদের ৩৫ বছর পর পাওয়া রাকসুর কর্মকাণ্ড।’
আয়োজনটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুলও। তিনি বলেন, ‘আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানারে করা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকসুর নেতাদের এমন দাবি দেখেছি যে, এটি তাদের উদ্যোগে হচ্ছে। তাহলে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে এ ধরনের আয়োজন কেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি এটি সালাহউদ্দিন আম্মারের ব্যক্তিগত উদ্যোগও হয়ে থাকে, তাহলেও প্রশ্ন আসে, ছাত্রশিবির কেন নিজেদের ব্যানারে আয়োজনটি করছে না। শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মের আড়ালে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।’
তবে আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’
গরুর নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সেজন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে।’