Image description
অপরাধজগৎ

রাজধানীর মিরপুর যেন সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। রাজনীতির পটপরিবর্তনে ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে হেরফের হয় না। খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখল, মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে ঘুরেফিরে সেই পুরোনো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নামই আসছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত ভয়ংকর চার শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে মিরপুর এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নাটাই। গোটা মিরপুর এলাকাকে চার ভাগ করে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে সব ধরনের অপরাধ কার্যক্রম। এই চার সন্ত্রাসী গ্রুপ এখন পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে। তাদের ইশারায় মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, শাহআলী, রূপনগর ও দারুস সালাম থেকে শুরু করে ভাসানটেক পর্যন্ত অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের ৬৩ সহযোগী সন্ত্রাসী।

পুলিশের তালিকায় থাকা চার শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেন— মফিজুর রহমান মামুন, ইব্রাহীম খলিল ওরফে কিলার ইব্রাহীম, শাহাদাত হোসেন এবং মোক্তার হোসেন। পুলিশের তথ্য বলছে, মিরপুরে সব অপকর্ম এই চারজনের নামেই হচ্ছে। বিভিন্ন মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়ে চারজনই বিদেশের মাটিতে ‘শান্তিতে’ থাকলেও দূর দেশ থেকেই সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে মিরপুরজুড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুরে প্রায় প্রতিদিনই এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি থেকে শুরু নানা অপরাধ করলেও আতঙ্কে স্থানীয় লোকজন মুখ খোলার সাহস পান না। এমনকি প্রাণের ভয়ে তারা থানা-পুলিশ পর্যন্তও যান না। শুধু খুন বা গুলির মতো ঘটনা ঘটলেই এই সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

মিরপুর এলাকার আবাসন ব্যবসায়ী সূত্র বলছে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নিজ নিজ এলাকায় তাদের চাঁদা না দিলে নতুন ভবন ওঠানো যায় না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান পর্যন্ত এদের নিয়ন্ত্রণে। ওই সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের কথার বাইরে গেলেই আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ফোনে চলে আসে হুমকি। এজন্য মুখ বুজে সবাই সহ্য করছে এদের অপকর্ম।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মিরপুর এলাকার ৬টি থানায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ২৭টি মামলা হয়। এ ছাড়াও ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা হয় ১৪টি। খুনের ঘটনায় ২১টি মামলা হয়। এসব অপরাধের বেশির ভাগের সঙ্গেই ওই চার শীর্ষ চার সন্ত্রাসী গ্রুপের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছি। অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত হবে, তাদের কোনো পরিচয় আমরা আমলে নেব না। অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

কোন সন্ত্রাসীর নিয়ন্ত্রণে কোন এলাকা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, ফোর স্টার গ্রুপের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি ভয় ছড়াচ্ছে মফিজুর রহমান মামুন গ্রুপ। মামুনের সহযোগীরা মিরপুর-১২, পল্লবী, সাগুপ্তা ও বাউনিয়া এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অন্যদিকে, পলাতক সন্ত্রাসী ইব্রাহীম খলিল ওরফে কিলার ইব্রাহীমের গ্রুপ মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ভাসানটেক ও কালশী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী শাহাদাত মিরপুর-১, মিরপুর-২, মিরপুর-৬ ও মিরপুর-৭ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। মোক্তারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ এলাকা।

মালয়েশিয়ায় বসে ১৯ সহযোগীর মাধ্যমে চার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন মামুন: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের অবস্থান মালয়েশিয়ায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৩০টি মামলা ও ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। একাধিক মামলায় দণ্ডও পেয়েছেন পুলিশের তালিকাভুক্ত এই শীর্ষ সন্ত্রাসী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ২০০২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাভোগ করেছিলেন মামুন। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৪ সালে ভারতে পালিয়ে যান। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে ১০ বছর সাজা ভোগ করেন তিনি। এরপরও ভারতে বসেই মামুন মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় একপর্যায়ে দেশে ফিরলেও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা তাকে ফের গ্রেপ্তার করেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে নানা দেশ ঘুরে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় মামুন।

রাজধানীর সন্ত্রাসীদের বিষয়ে খোঁজ রাখতেন, এমন একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ৯০ দশকের শেষের দিকে ছিঁচকে সন্ত্রাসী হিসেবে এই মামুনের নাম ওঠে পুলিশের খাতায়। ২০০২ সালের দিকে তার নাটকীয় উত্থান ঘটে। ওই সময়ে পুলিশের হাতে আটক এক মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় পল্লবী থানায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নাম আসে মামুন ও তার গ্রুপের। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির পর ওই সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর একাধিক মামলা হলেও ২০০৪ সালে এক দিনেই সাতটি মামলায় জামিন হয় তার। তখন এ নিয়ে তোলপাড় হলেও তাকে আটকে রাখা যায়নি, ভারতে পাড়ি জমান তিনি।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের নভেম্বরে পল্লবীর একটি দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপরই ফের সামনে আসে মামুনের নাম। তদন্তে বেরিয়ে আসে তার নির্দেশেই খুন হন কিবরিয়া। ওই বছরের জানুয়ারিতে পল্লবীর আলব্দির টেক এলাকায় এ কে বিল্ডার্সের কার্যালয়ে মামুনের নামে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা হয়।

পুলিশের তালিকায় মামুনের ১৯ সহযোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে আছে তার বড় ভাই জামিলুর রহমান ও মশিউর রহমানও। পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মামুনের এই দুই ভাইও পলাতক। মূলত এদের মাধ্যমেই মামুন তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে দেলোয়ার হোসেন রুবেল, ন্যাটা আলমগীর, রফিকুল, সানি, কালা মোতালেব, রাজন, ভাগ্নে মামুন, সোহেল, সেলিম, কায়েস, প্রকাশ, সুজন, হাবিব, সাগর, রোকন, শামীম ও ল্যাংড়া রুবেলের নাম রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ল্যাংড়া রুবেল মামুনের সরাসরি ক্যাডার হলেও নিজের একটি গ্রুপ তৈরি করেছে। তার গ্রুপের সদস্যরা অপর ৩ সন্ত্রাসীর হয়েও ভাড়ায় খাটে।

ফ্রান্সে অবস্থান করে ৮ সহযোগী দিয়ে মিরপুরের চার এলাকায় ত্রাস কিলার ইব্রাহীমের: পুলিশের খাতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহীম খলিল ওরফে কিলার ইব্রাহীরের অবস্থান ফ্রান্সে। তবে পুরোনো এই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এখনো সাত সহযোগী নিয়ে মিরপুরের বড় একটা অঞ্চলে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্র বলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ইব্রাহীম বিভিন্ন সময়ে অপরাধ করে ভারতে পালিয়ে যেত। সুযোগ বুঝে দেশে ফিরত। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় সরকারি উদ্যোগে তাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ২০১৬ সালে আদালত থেকে জামিন পেয়ে ফের ভারতে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ইউরোপের দেশ ইতালিতে তার অবস্থানের তথ্য মিললেও সর্বশেষ এই সন্ত্রাসী ফ্রান্সে আয়েশে বসবাস করছে বলে তথ্য মিলেছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও কাফরুল ও ভাসানটেক থানায় বেশ কয়েকটি জিডি রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, হত্যা, অস্ত্র এবং ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এসব মামলা ও জিডি হয়। অন্তত একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড রয়েছে।

সূত্র বলছে, কিলার ইব্রাহীমের হয়ে তার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে যুবরাজ, সাবু, সাকিল, ভাগ্নে সোহেল, জনি, কালা ইব্রাহীম, বডিগার্ড শামসু ও পাতা সোহেল। তা ছাড়া এই গ্রুপ অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন ও শাহাদাতের গ্রুপের সঙ্গে মিলেও নানা অপরাধ করে আসছে।

ইতালিতে অবস্থান করে ৬ জনকে দিয়ে মিরপুর অশান্ত করছেন শাহাদাত: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে মিরপুরের আলোচিত সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে শাহাদাত হোসেনের নাম। ২০০২ সালে অবিভক্ত মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। ছাত্রনেতা হলেও মূলত ওই সময় থেকেই হয়ে ওঠেন মিরপুরের ত্রাস। তার আতঙ্কে মিরপুরে ছাত্রলীগের কমিটিও হয়নি দীর্ঘ বছর।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, অপরাধ সাম্রাজ্য ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের পথে এই শাহাদাত কাউকে পথের কাঁটা মনে করলেই খুন করে নিজের পথ পরিষ্কার করেছেন। মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনির উদ্দিনকেও হত্যা করেন তিনি। ওই হত্যাকাণ্ডে ২০১৫ সালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। অবশ্য এর অনেক আগেই ২০০২ সালে কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটন হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী অনেক নেতা ও একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্য ছিল এই শাহাদাতের। মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দীর্ঘ সময় ধরে দেশে অবস্থান করতেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। এরপর মিরপুরের অন্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জোট করে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তার গ্রুপে এখনো টিপু সুমন, বিহারী নীলা, ফিটিং শিশির, পিচ্চি আল আমিন, প্রচার সাইফুল ও শামীম নামে ৬ সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে।

ভারতে বসেই মিরপুরে ত্রাস ছড়াচ্ছে মোক্তার: পুলিশের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোক্তারের অবস্থান ভারতে। তবে তার নির্দেশে ১৬ সহযোগী সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ করে মিরপুর-১০ এবং মিরপুর-১১ নম্বর এলাকা। চাঁদাবাজি করা, ককটেল হামলা, ভয় দেখানো এবং মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে এই গ্রুপের সদস্যরা।

পুলিশ সূত্র জানায়, মোক্তারের হয়ে হাড্ডি সোহাগ, নওশাদ, সোহাগ, আশিক, রেজাউল, ঢাসা শরীফ, এলেক্স জুয়েল, শুটার জাকির, বিপি কবির, সালাউদ্দিন, তপু, আমিন, রকি, ছোট রাকিব, শাহপরান ও মিঠু মিরপুর-১০ ও মিরপর-১১ এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

১০ সহযোগীকে নিয়ে মিরপুরের সব সন্ত্রাসীর সহযোগী ল্যাংড়া রুবেল: পুলিশ সূত্র বলছে, মিরপুর এলাকার শীর্ষ চার সন্ত্রাসীর নির্দেশে সব অপরাধ সংঘটিত হলেও তাদের সবার হয়ে দায়িত্ব পালন করে রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল। মূলত এই রুবেল পল্লবীর বিহারী ক্যাম্প-কেন্দ্রিক মাদকের স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে সে মাদক স্পট দেখভালের দায়িত্ব পালন করে। ‘কাঁচা টাকা উৎপাদনের’ এসব মাদক স্পটে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে খুন করতেও দ্বিধা করে না রুবেল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, প্রায় দেড় যুগ আগে ছিনতাই-চুরির মতো অপরাধ দিয়ে রুবেল অপরাধের অন্ধ গলিতে ঢোকে। কয়েক বছর আগে পল্লবীর একটি ক্যাম্প এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে তার এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতে শুরু করে। চালকের পরিচয়ে মূলত তখন থেকেই মাদক পরিবহন ও সরবরাহে জড়িয়ে পড়ে। গুলিতে এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয়ভাবে তার নাম হয়ে ওঠে ল্যাংড়া রুবেল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অটোরিকশার চালক রুবেল এখন প্রাইভেট কারে চড়ে। নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক বাড়ি। মাঝেমধ্যেই বিলাসী রিসোর্টে রাতযাপন করে। অবশ্য সম্প্রতি পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্পে আলমগীর নামে আরেক মাদক কারবারির সঙ্গে দ্বন্দ্বে তাকে গুলির ঘটনায় এই রুবেলকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিরপুরের পুলিশ সূত্র বলছে, এক সময়ে ছিনতাই ও অটোরিকশায় মাদক সরবরাহে জড়িত রুবেলের এখন ১০ সদস্যের একটি গ্রুপও রয়েছে। এই গ্রুপ পল্লবীর মাদক স্পট পাহারার পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে ভাড়ায় নানা অপকর্ম করে থাকে। এই গ্রুপে ফাইজু, জিন্দা, টানা আকাশ, হকি সুমন, ইদু, গোমা কাল্লু, ভাগ্নে আরমান, সোবহান, মোমিন, নেট সুমন, চেতুয়া সানু ও কিরণ রয়েছে। তবে এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে তানজিদ আহমেদ ওরফে বাপ্পা, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুবেলের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে গত দুই বছরে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার আরও তিনটি মামলা হয়েছে। সানি ওরফে পেপার সানি নামে তার এক সময়ের সহযোগীকে হত্যা মামলার আসামিও সে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুর এলাকায় ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্প ঘিরে গড়ে ওঠা অন্তত ২০০ মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রণ ল্যাংড়া রুবেলের হাতে। মূলত সে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় এই মাদকসাম্রাজ্য চালায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ কালবেলাকে বলেন, মিরপুর এলাকায় এক সময়ে যারা শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল, এলাকার বাসিন্দারা ওই নামগুলোর সঙ্গে পরিচিত। বর্তমানে এলাকার উঠতি অপরাধীরা ওই সন্ত্রাসীদের নামগুলো ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে। সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টার তথ্য পেলেই অভিযান চালানো হয়। সন্ত্রাসী কাজ করে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, গত ৬ মাসে মিরপুর এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনাতেও অন্তত ২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সুতরাং, অপরাধ করলে আইনের আওতায় আসতেই হবে।