রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন— হৃদয় (২৩), সুজন (২২), সোহেল ওরফে চায়না সোহেল (২৬) ও রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী (২২)। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিন বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং লিডার ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়।
শুক্রবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর ও খোলামোড়া এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব। কোলচর এলাকা থেকে হৃদয়কে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। একই এলাকা থেকে সুজন ও সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে দুটি তরবারি ও তিনটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া খোলামোড়া টাউন এলাকা থেকে রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীকে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের আলোচিত অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, দস্যুতা, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে।
সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির সাতটি এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। সোহেল ওরফে চায়না সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চারটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া হৃদয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও খুনের দুটি এবং ইটনা থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দুটি মামলা রয়েছে।