সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুটা ইতিবাচক হলেও শেষ পর্যন্ত দরপতনের ধাক্কাতেই লেনদেন শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার।
আজ বৃহস্পতিবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দর হারানোর তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও কমেছে ডিএসইতে।
ডিএসইতে সকালে লেনদেন শুরু হয়েছিল বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সূচকের ঊর্ধ্বমুখী এই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে মধ্যাহ্নের পর থেকেই শেয়ারের বিক্রি চাপ বাড়ে। দর বৃদ্ধির তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় নাম লেখাতে থাকলে দিনের বাকিটা সময় একই ধারা বজায় থাকে।
দিনের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে দর বাড়ার তালিকায় স্থান পেয়েছে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট, দর হারিয়েছে ১৮২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের দাম। ক্যাটাগরিভিত্তিক হিসাবে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও দর কমেছে ৯৯টির। বাকি ২৭টির দাম একই জায়গায় স্থির ছিল।
অন্যদিকে, ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২৫টি কোম্পানির দর বেড়েছে এবং ৪২টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪১টির দাম বাড়লেও সমপরিমাণ ৪১টির দাম কমেছে। এছাড়া মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৫টির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬টির।
অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারানোর কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই শরীয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক কমার দিনে ডিএসইতে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণও বেশ কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দিন শেষে বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার তুলনায় ১৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা কম।
এদিন মোট লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইল লেনদেন করেছে ২৬ কোটি ২ লাখ টাকা এবং ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে মালেক স্পিনিং। এছাড়াও শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় জায়গা করে নেয় বেক্সিমকো, ফারইস্ট নিটিং, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
অন্যদিকে, আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতন অব্যাহত ছিল। এদিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১০৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দাম। তবে ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে কিছুটা বেড়েছে। সেখানে আজ মোট ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।