Image description

কিছু দিন ধরেই দেশজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। গ্যাসের চাপ না থাকায় নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি পাম্পের মধ্যে ৩০টি বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। খোলা থাকা দু-তিনটি পাম্পে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও গ্যাস পাচ্ছেন না অনেকেই।

সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি। ভোরে পাম্পে এসে সিরিয়াল দিয়েছেন অনেক চালক। অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাওয়ায় যাত্রী পরিবহনের জন্য সময় পাচ্ছেন কম। এতে কমে যাচ্ছে চালকদের আয়। আয় কমায় ভাড়ায় গাড়ি চালানো চালকদের জন্য মালিককে দৈনিক ভাড়া পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সস্তাপুর এলাকায় গাড়ির সারিতে বসে থাকা সিএনজি চালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পাম্পে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। সকাল ১১টার পর আর গ্যাস পাওয়া যায় না। সকাল সাতটায় এসে বসে আছি। দুপুর দেড়টা বাজে এখনও গ্যাস পাইনি। গাড়িই চালাতে পারছি না। আয় করব কীভাবে?’

শিবু মার্কেট এলাকার একটি পাম্পে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক মো. দুলাল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা লাইনে থাকার পর পাম্পের ভেতরে ঢুকতে পেরেছি। এরপরও গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কয়েক দিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না, গাড়ির মালিকের ভাড়াও দিতে পারছি না।’

মাস সিএনজি ওয়ার্কার্স লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার কাজী রাকিবুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে স্টেশনে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। চাপ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত একটি সিএনজি অটোরিকশায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া যায়। কিন্তু সংকটের কারণে ১০০ টাকার গ্যাসও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্যাস লাইনে সাধারণত প্রায় ১৫ পিএসআই চাপ থাকে। সেখানে এখন এক পিএসআই চাপও নেই। সকাল থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে আমরা কোনো নোটিশও পাইনি।’

শাহাবুদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্টাফ মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে লাইনে গ্যাসের চাপ কম। ঢাকার দিকে গ্যাস না থাকায় সেখানকার গাড়িগুলোও নারায়ণগঞ্জের দিকে আসছে। এতে স্টেশনগুলোতে গাড়ির চাপ আরও বেড়েছে। কিন্তু গ্যাসের চাপ এত কম যে পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

গ্যাস সংকটে পাম্প বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ জোনের সভাপতি সাঈদা আক্তার। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে মোট ৩৩টি পাম্প রয়েছে। গ্যাস না থাকায় এর মধ্যে ৩০টি পাম্পই এখন বন্ধ।’

তিনি বলেন, চলমান গ্যাস সংকট কবে কাটবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো তথ্য দেয়নি। দ্রুত সংকট সমাধানের জন্য পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম মনজুর আজিজ মোহন স্ট্রিমকে বলেন, এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউর দুটি ইউনিটের একটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সেটি মেরামত শেষে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে।