মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে ৮৫ বছর বয়সী এক অসুস্থ বৃদ্ধাকে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তিন দিন ধরে পরিবারের কোনো সদস্য তার খোঁজ নেননি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কেনার মতোও কেউ ছিলেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা। তবে তিন দিন পর ওই বৃদ্ধার এক ছেলে হাসপাতালে এসে তাকে নিয়ে গেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধার বাড়ি হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে। তিনি মৃত মুন্নাফ মিয়ার স্ত্রী। তার চার ছেলে। বড় ছেলে উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় আলাদাভাবে বসবাস করেন। অপর এক ছেলে ঢাকায় ব্যবসা করেন এবং সেখানে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রতিবেশী।
তবে চার ছেলের কেউই মাকে নিজেদের সঙ্গে রাখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন ছেলে মায়ের জন্য খরচ পাঠালেও অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে তার পাশে নিয়মিত কেউ ছিলেন না।
স্থানীয় প্রতিবেশী সিদ্দিক বলেন, ওই বৃদ্ধা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো আচরণ করেন। তার চার ছেলে রয়েছে। এক ছেলে ঢাকায় ভালো ব্যবসা করেন এবং মায়ের খরচ দেন। তিনি মায়ের জন্য পদ্মাপাড়ে একটি বাড়িতে থাকার ব্যবস্থাও করেছিলেন বলে জানতেন। তবে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে রেখে গেছেন, তা তিনি জানেন না।
হাসপাতালের নার্স আলেয়া ও ইয়াসমিন জানান, গত ৮ আগস্ট রাতে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে যাওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর কয়েক দিন পার হলেও পরিবারের কেউ তার খোঁজ নিতে আসেননি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবস্থাও করছিলেন না কেউ। তিন দিন পর বুধবার বেলা ১১টার দিকে আক্কাস নামে তার এক ছেলে হাসপাতালে এসে তাকে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুস সালাম বলেন, বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বজনদের কাউকে নিয়মিত হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর বৃদ্ধার স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে তার এক ছেলে হাসপাতালে এসে তাকে নিয়ে গেছেন।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাকে অবহিত করেছে। অসুস্থ মাকে হাসপাতালে রেখে স্বজনদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগের বিষয়ে একজন এসআইকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তবে পরে ওই বৃদ্ধাকে তার এক ছেলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধার পাশে স্বজনদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অসুস্থ ও বয়স্ক মায়ের দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।