Image description

কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি-এ আলোচনার মধ্যেই বঙ্গভবনে শুরু হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতিকে বরণ করার প্রস্তুতি। নিয়ম ও রেওয়াজ অনুযায়ী, পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেবে বঙ্গভবন। এরই মধ্যে বরণের মহড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বঙ্গভবনের মতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা এক মহাযজ্ঞের মতো কাজ। আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক কাজও রয়েছে। এর মধ্যে কোথাও যেন ত্রুটি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। সব ধরনের রাষ্ট্রীয় আচার মানতেই এ উদ্যোগ বলে জানান বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।

তাঁরা জানান, ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বঙ্গভবনের অনেক রেওয়াজ পরিবর্তন করা হয়েছে। জনবল কমানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আচার লঙ্ঘন করা হয়। বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি আসাকে কেন্দ্র করে এসব ত্রুটিবিচ্যুতি ঠিক করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ তদারকিও করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতিকে বরণ করার সব ধরনের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব বলে জানান বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।

বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে পারেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকেই প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন। যদিও আগে অনেকের নাম আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই দলটিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপি এবার একজন রাজনীতিবিদকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চায়। আর তা হতে হবে দলের ভিতর থেকে। দলটির নেতারা এমন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। সেই অবস্থান থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিবের নামই বিবেচনায় এসেছে বলে জানান দলটির অনেকে।

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যদিও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী প্রথমে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার কথা বলেছিল। পরে ১১-দলীয় জোট থেকে শরিক দল এলডিপি নেতা অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ আগস্ট সংসদের বিশেষ বৈঠকে এমপিদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

ফাইল স্বাক্ষর আর রুটিন কাজ করে সময় কাটছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিয়মিত অফিস করছেন বঙ্গভবনে। প্রতিদিন বেলা ১১টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির কাছে আসা ফাইলগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছেন, দেখছেন সতর্কভাবে। স্বাক্ষর করার উপযুক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষর করছেন। আবার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে সেগুলো পাঠিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতির যেসব রুটিন কাজ সেগুলোও করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এভাবেই বঙ্গভবনে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটছে তাঁর। রাজধানীর যানজটের কথা চিন্তা করে তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন বঙ্গভবনে। অফিসফেরত লোকজনের সমাগম কমলে বের হন। থাকছেন সংসদ সচিবালয়ে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এরই মধ্যে তিনি কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। বক্তৃতা দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। কর্মঘণ্টাগুলোয় বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রের কূটনীতিকের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচিত এলাকার মানুষের সঙ্গেও নিয়মিত দেখা করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতিকে বরণের বিষয়গুলো তিনিও কিছুটা তদারকি করছেন বলে জানান বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতিকে বরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা এখন এসব নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিয়মিত অফিস করছেন বঙ্গভবনে। ফাইল স্বাক্ষরের পাশাপাশি রুটিন কাজগুলো করছেন তিনি।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সংসদের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই তা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, শারীরিক অসামর্থ্য বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ওই দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। অর্থাৎ তাঁর মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি ছিল।