Image description

ছয় বছরে গড়িয়েছে আড়াই বছরের তিস্তা সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। বুড়ি তিস্তার ১ হাজার ২০০ একর জমি বেদখল, বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ে বিলম্ব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, প্রকল্পের কাজ চলমান। বিভিন্ন সমস্যার কারণে সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের অংশ। এখানকার ১ হাজার ২৭০ একর জমি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখর করে রেখেছেন। উল্লেখ্য, প্রকল্পের ৭১ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনে তিস্তা সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ আড়াই বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প পাস করে। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ আড়াই বছর বাড়ানো হয়।

প্রকল্প কমান্ড এলাকার ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে তৃণমূল পর্যায়ে সেচের পানি পৌঁছে দিতে ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেকেন্ডারি আর টারসিয়ারি সেচ ক্যানেল নির্মাণে বিশেষ এই প্রকল্প (তিস্তা সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ) একনেকে পাস হওয়ার পরে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হওয়ার আশা করে পাউবো। সূত্র মতে বরাদ্দের ১ হাজার ৪৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮৬৫ কোটি টাকা। এখনো ৭০০ কোটি টাকার কাজ বাকি রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তাবায়নে সেচ ক্যানেলের দুই পাশে দেড় লাখের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড গাছ লাগাতে বন বিভাগকে ৩ কোটি টাকা দিয়েছে। বন বিভাগ এখন পর্যন্ত গাছ লাগানো শেষ করতে পারেনি।

পাউবো সূত্রে আরও জানা গেছে, সেচ কমান্ড এলাকায় ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও গত বছর সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু সেচ দেওয়া হয়েছে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার বেশ কিছু কারণের মধ্যে নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ১ হাজার ২৭০ একর জমি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে রেখেছেন। ওই জমি সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের অন্তর্গত। ওই জমি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকায় সেচ দেওয়া এবং নদীর প্রবাহমাত্রা ঠিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে স্বাভাবিক প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ২০ হাজার কিউসেক পানি। শুধু সেচ প্রকল্প চালাতেই প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন প্রায় ১৪ হাজার কিউসেক এবং নদীর অস্তিত্বরক্ষার জন্য প্রয়োজন ৬ হাজার কিউসেক পানি। কিন্তু শুকনো মৌসুমে তিস্তায় প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদের সময় ব্যারাজ পয়েন্টে বিগত কয়েক বছর ধরে পাওয়া যায় মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার কিউসেক পানি। যে সামান্য পরিমাণ পানি তিস্তা নদীতে পাওয়া যায় তার সবটুকুই সেচ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের সেচ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেট বন্ধ রেখে সেচ প্রকল্পে পানি সরবরাহ করায় মূল নদীতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদী ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে।