দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আসামি। বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলার তদন্তও চলছে। অথচ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানতে চাইলে দুদকের দেওয়া অনাপত্তিপত্রে (এনওসি) বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দুদকের নিজস্ব নথিপত্র পর্যালোচনায় এমন অসংগতির তথ্য পাওয়া গেছে।
বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মওদুদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলার নথিতে তার নাম রয়েছে।
দুদকের নথিতে মামলা ও তদন্তের তথ্য থাকার পরও চলতি বছরের ১১ মার্চ দেওয়া এনওসিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বেবিচকের কাছে এমন বার্তা যায় যে, মইদুর রহমান মওদুদের বিরুদ্ধে দুদকের কোনো মামলা নেই। প্রশ্ন উঠেছে, দুদকের নিজস্ব নথিতে থাকা মামলার তথ্য এনওসিতে বাদ পড়ল কীভাবে? গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘অনাপত্তিপত্রে ভুল হয়েছে। সংশোধন করে নতুন করে চিঠি পাঠানো হবে।’
দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে সংস্থাটি। অনুসন্ধানে বিমানবন্দর উন্নয়ন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বেবিচকের প্রকৌশলী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি করা একটি মামলার নথিতে মইদুর রহমান মওদুদকে বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
মামলার নথিতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো, বিধিবিধান না মেনে কাজ দেওয়া এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একটি প্রকল্পে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো এবং ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথি বলছে, মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই মার্চে বেবিচক থেকে মইদুর রহমান মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় দুদকের কাছে।
জবাবে দেওয়া এনওসিতে মামলার তথ্য না থাকায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দুদকের তথ্য যাচাই ও সমন্বয় ব্যবস্থা। তদন্তাধীন মামলার আসামির তথ্য কীভাবে এনওসি থেকে বাদ গেল, তার ব্যাখ্যাও এখনো স্পষ্ট নয়।
দুদকের মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক মোকাম্মেল হক বলেন, ‘এটা কীভাবে হলো, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’ একই শাখার পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, মানি লন্ডারিং শাখা থেকে যেভাবে তথ্য এসেছে, তারা সে অনুযায়ীই চিঠি দিয়েছেন।