Image description

‘ফ্যাসিজম’ বা ‘ফ্যাসিবাদ’ ধারণাটির উৎপত্তি হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ইটালিতে। এরপর এই মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে জার্মানি এবং ইউরোপের আরো নানা দেশে। জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে ‘নাৎসিজম’ বা ‘নাৎসিবাদ’ – এর উত্থান হয়। এটি ছিল ‘ফ্যাসিজম’ এর একটি রূপ। ‘ফ্যাসিবাদ’ উত্থানের মধ্য দিয়ে ইউরোপে হিটলার ও মুসোলিনির মতো বিতর্কিত নেতার উদ্ভব হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে শেখ হাসিনার সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ হিসেবে পরিচতি লাভ করছে। ফলে দেশের রাজনীতিতে ‘ফ্যাসিস্ট’ এখন বহুল উচ্চারিত শব্দ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি ২০টি দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টরা যত দেরিতে ক্ষমা চাইবে, রাজনীতিতে তাদের ফিরে আসাও অসম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ গবেষণার কথা জানান।

ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘রিকনসিলিয়েশন’, ক্ষমা চাওয়া ও স্বচ্ছ বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ সময় অধ্যাপক মামুন বলেন, তিনি ২০টি দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টরা যত দেরিতে ক্ষমা চেয়েছে এবং বিচারের মুখোমুখি হয়নি, তাদের ফিরে আসার প্রক্রিয়াও তত দীর্ঘ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে রাজনীতিতে ফিরে আসা সম্ভবও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুশোচনা প্রকাশের পরিবর্তে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তাঁদের নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে এবং স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তা না হলে রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ফিরে আসার সুযোগও নাও থাকতে পারে।’

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য ও চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ও বিদেশে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশ একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের মতো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষকে যেতে হয়েছে। তৎকালীন সরকারের সময়ে শিক্ষক সমাজ নির্যাতন, নিপীড়ন ও পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, জুলাই ন্যায়বিচার ও অধিকারের প্রতীক। এটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন না করে এর চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

সদস্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের জন্য এখনো অনেক কিছু করার আছে। তাঁদের পরিবারের দুজন সদস্যের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। কমিশনের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউজিসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মহিবুল আহসান।