Image description

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে গলায় দা ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগে তার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় যখন সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এ ঘটনাকে ‘সম্মিলিত লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যকে পারিবারিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

 
 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর উদ্দেশে দেয়া এক বিশেষ খোলা চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

 
 

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও ওই এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ঘটনাটি এমপি নাছির চৌধুরীর একান্ত পারিবারিক হলেও তা এখন আর চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সারাদেশের মানুষের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

চিঠিতে তিনি সরাসরি এমপির প্রতি লেখেন, ‘আমি জানি এই চিঠি পড়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার মতো শারীরিক/মানসিক অবস্থা আপনার নাই। তথাপি আপনার প্রিয়জনরা হয়তো আপনাকে অবগত করবেন। বিষয়টি ছিল একান্তই আপনার পারিবারিক। কিন্তু বর্তমানে আর পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যেখানেই যাই মানুষ আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে-জানতে চায়। কারণ আমি দিরাই-শাল্লার মানুষ। এটি আমাদের সম্মিলিত লজ্জা।’

 

চিঠিতে বর্ষীয়ান এই নেতার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনির আরো বলেন, ‘এই বয়সে আপনাকে নিয়ে এগুলো হওয়ার কথা না। আপনার লজ্জা আর আমাদের লজ্জা মিলেমিশে একাকার। আপনি আমাদের নির্বাচিত নেতা। তাই আমরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন। আপনি কত মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন, আর আজ আপনিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই বিষয়টি আর বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না। এখানেই ইতি টানুন। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে নেন।’

 

এর আগে সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপির স্ত্রী পারভীন আক্তার মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, এমপির ছোট সৎভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), অপর দুই সৎভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মীসহ ৮ জন এমপির দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঘরে ঢুকে তার গলায় দা ধরে জোরপূর্বক দলিলে সই নেন।

 

বাধা দিলে এমপির তৎকালীন অপর স্ত্রী মরহুমা শেলী চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ ছাড়া পারভীন আক্তারকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

 

পূর্বে এমপির আবেদনের বরাতে জানা যায়, মেয়েদের নামে সম্পত্তি লিখে দেয়ার কথা বলে মূলত প্রতারণার আশ্রয়ে সৎভাইয়েরা নিজেদের নামে ওই সম্পত্তি নিবন্ধন করে নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাবেক এ মন্ত্রীর এমন পারিবারিক বিরোধ আদালতে গড়ানোয় পুরো এলাকায় যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, শিশির মনিরের চিঠি সেটিকে আবারো প্রকাশ্যে আনলো।