Image description

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলি এবং নতুন যোগদান নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এরপরই হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা ‘দফা এক, দাবি এক—পরিচালকের পদত্যাগ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন এবং কক্ষে অবস্থান নেন।

আন্দোলনের কারণ নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা জানান, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি চিকিৎসা করতে দেননি। তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর। যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন না, ততক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ময়মনসিংহের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢাকা মেডিকেলে বদলি করা হয়েছিল। তবে নতুন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে চিকিৎসকদের একটি পক্ষ পরিচালকের সঙ্গে বারবার বৈঠকে বসে।

গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রেজাউল ইসলামের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে। জানা গেছে, সোমবার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধিদপ্তর।

সোমবার চিকিৎসকদের একটি দল রেজাউলের কক্ষে তালা দিতে যান। এ জন্য তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. হানিফের কাছে তালা চান। এ সময় চিকিৎসকেরা তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন হানিফ।

কর্মচারীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে সোমবার মিছিল করেন ঢামেকের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। মঙ্গলবার লিখিত স্মারকলিপি দিতে পরিচালকের কক্ষে আসেন তাঁরা।

ঢামেকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আজিম বলেন, ‘হানিফকে মারধরের ঘটনায় আমরা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে এসেছিলাম। কিন্তু এখনো স্মারকলিপি দিতে পারিনি, কারণ পরিচালকের কক্ষের ভেতরে চিকিৎসকেরা অবস্থান করছেন।’

বর্তমানে চিকিৎসকেরা কক্ষের ভেতরে এবং কর্মচারীরা বাইরে অবস্থান করায় পুরো প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।