বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রধানসহ তিনজন কর্মকর্তার কাছে হাদি হত্যায় জড়িতদের ও শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার। তবে তারা স্পষ্ট করে কোনও জবাব দেননি। গত রবিবার ও সোমবার (৯-১০ আগস্ট) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন তারা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’—R&AW-এর প্রধানসহ আরও তিনজন কর্মকর্তা ৯ আগস্ট-১০ আগস্ট ঢাকা সফর করেন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ডিজিএফআই-এর আমন্ত্রণে।
এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে ভারত সরকারের এ সব কর্মকর্তার ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের এক রকম তোপের মুখে পড়তে হয়। R&AW প্রধান পরাগ জৈন ও অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস (আইপিএস কর্মকর্তা, যার পিতা এমভি কোটনিস দীর্ঘদিন একই সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন), রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী ঢাকায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ‘যথাযথ মাধ্যমে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ হতে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত পলাতক বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এবং প্রশ্ন করা হয়—ভারত সরকার ঠিক কোন বিবেচনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এসব পলাতক কর্মকর্তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে এবং কবে নাগাদ তাদের ফেরত পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ফয়সাল করিম, তার সহযোগী আলমগীর ও ফিলিপকে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের সুস্পষ্ট দিন-তারিখ জানতে চাওয়া হয়। এছাড়াও ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুটিন দ্বিপাক্ষিক সফরে এসে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ভারতীয় দলের সদস্যরা, এমন তথ্য জানিয়ে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ডিজিএফআই-এর দায়িত্বশীল একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে বাংলাদেশ হতে সরাসরি যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট—সম্পর্ক গড়তে হলে ভারতকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারছে কি না।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, সে লক্ষ্যে পলাতক নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তর এবং শাস্তিপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার দলের অন্যান্য অপরাধীদের ফেরত পাঠিয়েই তাদের প্রমাণ করতে হবে, সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক বা আদৌ আগ্রহী কিনা।