পোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে ‘ঘুষ না দেওয়ায়’ শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগের তির ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। এদিকে ভবন নির্মাণ শেষ না হতেই আনা হয়েছে ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকার লিফট, এস্কেলেটর ও জেনারেটরের মতো নানা সামগ্রী। এখন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় ধুলাবালি আর পানিতে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার এসব সরঞ্জাম।
ডিএসসিসির গত ২১ জুনের তদন্ত প্রতিবেদন, ঠিকাদারের চিঠি এবং তৎকালীন মেয়র তাপসের সঙ্গে ঠিকাদারের কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কীভাবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাজ চালানো, ঘুষের লেনদেন, যৌথ পরিমাপ ছাড়া চুক্তি বাতিল এবং ভবন তৈরির আগেই কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম আমদানি করা হয়।
ডিএসসিসির ‘বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ মেগা প্রকল্পের আওতায় ২০২১ ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন এলাকায় বেজমেন্টসহ দুই ছাদের একটি পাঁচতলা ‘মাল্টিপারপাস বিল্ডিং’ বা মার্কেট নির্মাণের দরপত্র দেওয়া হয়।
ভবনটি দুই ভাগে ভাগ করে পূর্তকাজের প্যাকেজ-১০৭-এ ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং প্যাকেজ-১০৮-এ ২০ কোটি ৬৯ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রাক্কলন ধরা হয়।
বৈদ্যুতিক কাজের প্যাকেজ-১০৬-এ প্রাক্কলন ধরা হয় ১২ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬১ টাকা। এর মধ্যে ছিল আটটি এস্কেলেটর, দুটি লিফট, সাবস্টেশন ও তিনটি জেনারেটর সরবরাহ ও স্থাপন।
২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পূর্তকাজের কার্যাদেশ পায় মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং এবং মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোং নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং-এর মালিকানা ছিল ডিএসসিসির ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিকের। আর মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোং ছিল তার স্ত্রী পপি রানী ভৌমিকের প্রতিষ্ঠান।
পরে আকাশ কুমার ভৌমিক নিজের লাইসেন্স ছোট ভাই হেমন্ত কুমার ভৌমিকের নামে এবং স্ত্রীর লাইসেন্স শাশুড়ির নামে স্থানান্তর করেন। বৈদ্যুতিক কাজের কার্যাদেশ পায় এসএসআরআইএল-সিইইএল (জেভি)। এটি ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শহিদ উল্লাহ মিনুর তদবিরে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কাজ ও চুক্তি বাতিল
ধূপখোলা মাঠে খেলাধুলার উন্মুক্ত স্থান বাঁচাতে ও পরিবেশ সুরক্ষায় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন (নং ২০৩২/২০২৩) দায়ের করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। এর ভিত্তিতে হাইকোর্ট খেলার মাঠে মার্কেট ভবন নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেন।
নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পর প্রকল্প এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ এবং এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে বাস্তবে তা হয়নি। স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যায় ডিএসসিসি।
নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না করার অজুহাতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং এবং মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোংয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ডিএসসিসি।
ততদিনে প্রতিষ্ঠান দুটি ভবনের দুই অংশের একটি বেজমেন্টসহ দুটি ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে। তবে সিটি করপোরেশন এই কাজের পরিমাপে মেজারমেন্ট বুক ব্যবহার করেনি।
প্যাকেজ পূর্ত-১০৮-এ প্রথম ঠিকাদার মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোংকে চার বিলে ৫ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ৮১২ টাকা পরিশোধ করা হয়। পূর্ত-১০৭ প্যাকেজে মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোংকে চার বিলে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৫ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি বিলই দেওয়া হয়েছে আদালতের স্থগিতাদেশের পর।
আকাশ কুমার ভৌমিক
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে কাজের কোনো যৌথ পরিমাপ ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করে ডিএসসিসি। বাকি কাজের জন্য ২০২৪ সালের ১৬ মে নড়াইলের আওয়ামী লীগ নেতা কালাম হোসেনের প্রতিষ্ঠান ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি বাতিলের পর নিয়ম মেনে ঠিকাদারের সঙ্গে কোনো যৌথ পরিমাপ করা হয়নি। আইন ভেঙে আঞ্চলিক অফিস ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিমাপের ভিত্তিতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে দুই ঠিকাদারের কাজের প্রকৃত পরিমাণ আর সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক নূরে আলম জিকু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রথম ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর করপোরেশন মার্কেট ভবনের বাকি কাজের জন্য আমাদের সঙ্গে চুক্তি করে। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ ও পূর্ববর্তী ঠিকাদারের সঙ্গে যে কাজের সঠিক পরিমাপ করা হয়নি, তা আমাদের জানা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি ছাদ ঢালাইয়ের পর কোনো বিল পাচ্ছি না। সরকার বদলের পর করপোরেশনের ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন হয়েছে। এখন নতুন ম্যানেজমেন্ট কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। তারা বলছে, প্রথম ঠিকাদারের সঙ্গে আগের কাজের সমন্বয় করে বিল দেবে। কিন্তু প্রথম ঠিকাদার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হওয়ায় তিনি পলাতক। তার কোনো হদিস নেই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’
ঘুষ দাবির অভিযোগ ও কলরেকর্ড
মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং ও মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোং-এর দাবি, ভবনের বেজমেন্টসহ দুটি ছাদ ঢালাই ও তৃতীয় ছাদের সব কলাম শেষের পর তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) খাইরুল বাকের ও নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনর রশিদ চতুর্থ বিলের পর আরও ৩ কোটি টাকার বিল প্রস্তুত করেন। কিন্তু বিল হস্তান্তরের আগে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করায় কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিল ছাড়ের আগে প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেড’-এর কর্মকর্তা আফতাব হোসেন ও মাজেদ হোসেন বিলের ৩০ শতাংশ অগ্রিম ঘুষ দাবি করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে এই ঘুষ দাবি করছিলেন। এ বিষয়ে তারা মেয়র, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিল।
একপর্যায়ে সিটি করপোরেশন উল্টো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সম্মানহানি করেছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি দুটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে চুক্তি বাতিল করে।
দুই প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, ঘুষের টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বিল দেওয়া হয়নি এবং প্রকল্পের কাজেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত দুটি কল রেকর্ড এবং প্রকল্প পরিচালক খাইরুল বাকেরের ঘুষ নেওয়ার একটি ছবি এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে। একটি কল রেকর্ডে মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোংয়ের স্বত্বাধিকারী কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক ও প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের এক কর্মকর্তাকে কথা বলতে শোনা যায়। নিচে কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: আসসালামু আলাইকুম।
আকাশ কুমার ভৌমিক: ওয়ালাইকুমুসসালাম। মিজানের খবর কী? জিহাদের সাথে আপনার কথা হয় নাই?
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: জি স্যার, ইয়া করে দিয়েছি তো, সিটি করপোরেশনকে দিয়ে দিয়েছি আমি ইয়া বন্ধ করে।
আকাশ কুমার ভৌমিক: হ্যাঁ?
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: ওইটা ইয়া করে আমি সিটি করপোরেশনকে দিয়ে দিয়েছি আরকি। জানায়েছি যে, বিলটা এ রকম ইয়া হইতেছে।
আকাশ কুমার ভৌমিক: কাগজ দিছেন না কথা কইছেন?
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: ওদেরকে সফট কপি দিয়ে দিয়েছি, সফট কপি।
আকাশ কুমার ভৌমিক: হার্ডকপি দেন নাই কেন? জিহাদের সাথে কি কথা হয় নাই এখনও আপনার?
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: হ্যাঁ, আমার জিহাদের সাথে কথা হইছে। জিহাদ তো বলছে যে জানাবে। জিহাদ যেটা বলছে সেটা আমি সিটি করপোরেশনকে জানায়ে দিয়েছি, হ্যাঁ?
আকাশ কুমার ভৌমিক: হ্যাঁ।
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: এবং তারা কী বলছে, সেটাও আমি জিহাদকে জানায়া দিয়েছি।
আকাশ কুমার ভৌমিক: আচ্ছা আচ্ছা।
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: পরে জিহাদ বলছে যে পরে আমাকে জানাবে। পরে আর কিছু জানায় নাই। এ জন্য আমি আর কিছু ইয়া করি নাই। এই যে কালকে অফিসে ইয়াতে সাইটে যাব তো। আমাদের বসও আসবে সাইটে কালকে।
আকাশ কুমার ভৌমিক: ঠিক আছে, আপনারা বসের সঙ্গে ইয়া করে কালকে ফাইনাল করেন। জিহাদে বলছে আমারে, ৩০ পারসেন্ট চাইছেন, দিয়ে দেওয়া হবে। দিয়ে দেওয়া হবে, দেন। শেষ করেন।
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তা: ঠিক আছে।
আকাশ কুমার ভৌমিক: ঠিক আছে, শেষ করেন।
আরেক কলরেকর্ডে মেয়র ফজলে নূর তাপস ও কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিককে কথা বলতে শোনা যায়।
ফজলে নূর তাপস: হ্যালো?
আকাশ কুমার ভৌমিক: হ্যাঁ, আদাব।
ফজলে নূর তাপস: জি, আকাশ। জি, ভালো আছেন?
আকাশ কুমার ভৌমিক: জি, জি।
ফজলে নূর তাপস: ওই যে ধূপখোলা মাঠের মাঠ-মার্কেটের কাজটা আবার ইয়ে হয়ে গেল যে?
আকাশ কুমার ভৌমিক: না, এই যে ইয়া বিল হইতে দেয় না। বিল না দিলে এক আমার চেষ্টায় তো আর কাজটা উঠবে না। কারণ এই পর্যন্ত ১৬ কোটি টাকার কাজ করছি। ৮ কোটি টাকা বিল দেয় নাই। তো এটা কী সম্ভব?
ফজলে নূর তাপস: তো আপনাকে তো আপনাকে তো সব বিল দেওয়া হয়েছে না?
আকাশ কুমার ভৌমিক: না না, এডি ইয়া তাই ১০ টাকার কাজ করলে ৪ টাকার বিল দেয়। আর এই ইঞ্জিনিয়াররা যা খুশি তা করে, ৪০ শতাংশ টাকা চায়। এটা কি যে কাজ করছি, সেই কাজের ৪০ শতাংশ টাকা চায়। এই এর আগেও তো অভিযোগে লেখছিও আমি এগুলি। আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা করা হয় নাই। দুইটা ছাদ দিলাম, দুইটা ছাদ দিলাম, এখন পর্যন্ত দুইটা ছাদ দিছি...।
ফজলে নূর তাপস: ৪০ শতাংশ টাকা মানে? ৪০ শতাংশ টাকা চায় মানে বুঝলাম না।
আকাশ কুমার ভৌমিক: ৪০ শতাংশ টাকা চায় ওই কনসালট্যান্টের লোকেরা। আমরা নিচে কাজ করছি, এখন বলে কাজ করে নাই, এইডা সেডা, দুনিয়ার প্যাঁচাল। এই টাকা নিতে গেলে ৪০ শতাংশ টাকা চায়। তাদের কর্মকর্তা...।
ফজলে নূর তাপস: কে, আপনার কাছে কে টাকা চাইবে?
আকাশ কুমার ভৌমিক: তারা! এই যে যারা কনসালট্যান্টের দায়িত্বে আছে। তারপরে হইল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আছিল এখানে আগে, মাজেদ। এই তারে মিলেই চাইছে। আমি তো এগুলি অভিযোগে উল্লেখ করছিলাম।
ফজলে নূর তাপস: কার কাছে অভিযোগ করছেন? কনসালট্যান্টকে ওখানে?
আকাশ কুমার ভৌমিক: কনসালট্যান্ট কি উপদেষ্টা? উপদেষ্টা, ফার্মের নাম উপদেষ্টা।
ফজলে নূর তাপস: প্রকল্প উপদেষ্টা?
আকাশ কুমার ভৌমিক: হ্যাঁ, প্রকল্প উপদেষ্টা। আজ থিকা দুই মাস আগে একটা ছাদ দেওয়া হইছে, সেই ছাদের এখন পর্যন্ত বিল হয় নাই। আবার গত সপ্তাহে একটা ছাদ দেওয়া হইছে। সেটারও এখন পর্যন্ত ইয়া বিল করে নাই। আর এত বড় কাজ এত বড় একটা কাজ কেউ লয় না। সেই কাজটা উঠাইয়া দেওয়ার তো তখন ১৫ শতাংশ রিভাইজ কইরা দিবে হুমায়ুন ভাই বলছে, যে ১৫ শতাংশ রিভাইজ কইরা দিবে। কিন্তু ইয়া এখন কেউ কারও কোনো কথাই নাই, যার যে টাকাপয়সা সে সে নিয়া এই ইয়ে হয়ে গেছে। আর ইয়ার তলে পইড়া রইছি আমিই। একটা সুপারভিশন টিম ইয়ে কইরা দেন, যে তদন্ত করুক এখানে কত টাকার কাজ হইছে, কত টাকার বিল দিছে। শেষ, আমি ইয়া ইয়ে কইরা দেই, কোনো অসুবিধা নাই।
ফজলে নূর তাপস: আপনি আপনারা প্রধান প্রকৌশলীকে জানাইছেন কিছু?
আকাশ কুমার ভৌমিক: জানাইছি, জানাইছি। উনি আবার উনি তো আরেক ইয়া! উনি তো একেবারেই সব আগ্রহী বলছে যে, এই কইরা দিতাছি, ওই কইরা দিতাছি, নির্দেশনা দেয়। ওনার নির্দেশনা আপনে দুইবার ফোন দিছেন ওনারে। আপনে দুইবার ফোন দিছেন, আমি গেছিলাম আর আমার সামনে আপনে দুইবার ওনারে ফোন দিছেন যে এই ইয়ার ধূপখোলা মাঠের আকাশের এই বিষয়টা আপনে একটু দেখেন। আবার আমার সামনে বাকের সাহেবেরে দুইবার ফোন দিছেন। তাগো তো টনকই লড়ে না! সিটি করপোরেশনটা যেমন হেগো ইয়া সম্পত্তির মতো বানায়া রাখছে। তারা যা কয় তাই, এটা তো হইতে পারে না। ঠিক আছে, আমি আপনার কাছে আমি দু-একদিনের মধ্যে একটা অভিযোগ দিয়ে দিব। আর আগে যে বিলগুলি, এগুলি ইয়া করতে বলেন, যেটা রানিং বিল সেগুলিও তো একটা বিল দুই মাস থাকতে পারে? ছাদ ঢালাই দিছি দুই মাস আগে, সেই বিল এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে না! টেবিলে টেবিলে যাইতে হবে কেন বিলের জন্য? একটা লস প্রজেক্ট। ১০০ টাকার রড কিইন্যা ইয়া ৪২ টাকা বিল পায়। ঠিক আছে।
সামগ্রিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আকাশ কুমার ভৌমিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মেয়র তাপস ধূপখোলা মাঠের কাজটি আমার পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করার জন্য অনুরোধ করলে দরপত্রে অংশ নেই। এরপরও এই কাজের জন্য মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৭৫ লাখ টাকা নেন। মেয়র তাপস তাকে টাকা দিতে বলায় এই টাকা তাকে দিয়ে দেই। পরে মার্কেটের বেজমেন্টসহ দুটি ছাদ ঢালাই এবং তৃতীয় তলার ছাদের কলামের কাজ শেষ করে ১২ কোটি টাকার বিল জমা দিলে মাত্র ৮ কোটি টাকার বিল দেয়। বাকি বিলের জন্য প্রকল্প পরিচালক খাইরুল বাকের ও নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনর রশিদ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিলের ৩০ শতাংশ টাকা অগ্রিম দাবি করেন। মেয়র তাপস নিজেকে সৎ দাবি করলেও প্রকৌশলীদের মাধ্যমে টাকা নিতো। আরে এই টাকা মধ্যস্থতা করতো উপদেষ্টা লিমিটেডের কর্মকর্তারা।
আকাশ কুমার ভৌমিক বলেন, ‘এই টাকা না দিয়ে মেয়রের কাছে অভিযোগ দিলে উল্টো প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছি বলে আমার পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করে চুক্তি বাতিল করে করপোরেশন। সে সময় আমি ঘুষ চাওয়ার দালিলিক প্রমাণও দিয়েছি। অথচ যেখানে পাঁচতলা ভবনের মধ্যে মাত্র তিনতলার কাজ শেষ হয়েছিল এবং প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৩৭ দিন বাকি ছিল। এই সময়ে তারা কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে কাজ বাতিল করে। এখন আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন ভৌত কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনর রশিদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক খাইরুল বাকের এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং ও মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেনি। এ জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আমরা তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তিনটি চিঠি দিয়েছি, তারা নিজেরাও যোগাযোগ করেনি বা প্রতিনিধিও পাঠায়নি। উল্টো তারা আর কাজ করতে পারবে না বলে একটি চিঠি দিয়েছিল। আর ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের নাম করে যদি কেউ ঘুষ চায়, সেটার দায়দায়িত্ব আমাদের না। এ বিষয়ে আমি জানি না। আর বিদ্যুৎ কাজের দরপত্রসহ আনুষঙ্গিকতা আগের প্রকল্প পরিচালক করেছেন।’
প্রকল্প উপদেষ্টা লিমিটেডের প্রকৌশলী আফতাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়রের ঘুষ বাণিজ্যের কোনো মিডিয়ার কাজ করা হয়নি। এ ধরনের কাজ কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই।’
ভবন নেই, আছে কোটি টাকার এস্কেলেটর-লিফট
ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন মার্কেট ভবন নির্মাণে পূর্তকাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ছাড়াই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে এসএসআরআইএল-সিইইএল (জেভি)। নিয়ম অনুযায়ী পূর্তকাজ শেষ হওয়ার পর সরঞ্জাম আনার কথা থাকলেও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মধ্যেই ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট ঠিকাদারকে দ্রুত মালামাল আমদানির নির্দেশ দেয় ডিএসসিসি। ইতিমধ্যে দুই বছর আগে দেশে পৌঁছায় ৮টি এস্কেলেটর, ২টি লিফট, সাবস্টেশন ও ৩টি জেনারেটর।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালামাল আমদানির পর তা বুঝে নিয়ে বিল পরিশোধের অনুরোধ জানানো হলেও ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় করপোরেশন তা গ্রহণ করেনি। পরে মালামাল বুঝে না নিয়েই ২০২৪ সালের ১১ জুন আটটি এস্কেলেটরের প্রথম চলতি বিলের ৫০ শতাংশ হিসেবে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৬ টাকা পরিশোধ করা হয়।
গত ২৩ ও ২৯ জুন এসএসআরআইএল-সিইইএল (জেভি) সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে ফের চিঠি দিয়ে মালামাল গ্রহণ ও বিল পরিশোধের অনুরোধ জানায়।
চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চুক্তি সম্পাদনের পর সরেজমিন পরিদর্শনে অবকাঠামো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি স্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। তা সত্ত্বেও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি ও সুরক্ষা ছাড়াই কর্মকর্তাদের মৌখিক চাপ ও নির্দেশে মালামাল আমদানির উদ্যোগ নিতে হয়। এমনকি পূর্বে অনুমোদিত ব্র্যান্ডের বদলে দরপত্রের শর্তবহির্ভূত মালামাল সরবরাহের জন্যও মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসএসআরআইএল-সিইইএলের (জেভি) অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের অব্যাহত চাপের পর ইউরোপ থেকে আনা ৮টি এস্কেলেটর বর্তমানে অরক্ষিত ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় প্রকল্পস্থলে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের আগস্ট ও নভেম্বরে আনা ২টি লিফট, ৩টি জেনারেটর ও সাবস্টেশন খালাসের পর সিটি করপোরেশন তা গ্রহণে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা দেখায়। তখন বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খরচে গুদাম ভাড়া ও নিরাপত্তা প্রহরী রেখে এগুলো সংরক্ষণ করতে হয়। যদিও এসব মালামালের ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

বকেয়া বিল পরিশোধ, মালামাল গ্রহণ এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসব জটিলতার মধ্যেই তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে, যেসব মালামালের বিল ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে তা ফেরত নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে ভবনের কাজ অসমাপ্ত থাকায় বাকি মালামাল না নেওয়াই শ্রেয়।

এসএসআরআইএল-সিইইএল (জেভি)-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর রাশেদ রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘অবকাঠামো অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মালামাল না আনলে ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দিয়ে চিঠি দেন। সাবেক মেয়র আমাদের ভিন্ন একটি ব্র্যান্ডের মালামাল আনতে চাপ দেন। তাদের চাপে বাধ্য হয়ে চুক্তি অনুযায়ী সরঞ্জাম আনলেও সুরক্ষার ব্যবস্থা সিটি করপোরেশন করেনি। মালামাল আমদানির সময় ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোর দাম ৯৮ দশমিক ৩৭ টাকা থেকে ১৩৮ দশমিক ৪৫ টাকায় পৌঁছানো এবং পরে আমদানি শুল্ক ২৩ শতাংশ থেকে ১৪৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। গণ-অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় মালামাল গ্রহণ ও বিল প্রদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন আমরা আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছি।’
তদন্ত কমিটির সুপারিশ
ডিএসসিসির চার সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান। এই কমিটি প্রকল্পের জটিলতা নিরসন ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। সে জন্য তারা একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে। পাশাপাশি সাতটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেয়।
সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের ঠিকাদার মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং ও মেসার্স প্রভাতী অ্যান্ড কোংয়ের সম্পাদিত কাজ দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ কাজের জন্য অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ শতাংশ জরিমানা ও ১০ শতাংশ কার্যসম্পাদন জামানত বাজেয়াপ্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন (নং ৭০২৮/২০২৬ ও ৭০২৯/২০২৬) দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রতিবেদন
দ্বিতীয় পর্যায়ের ঠিকাদার ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ের কাজ চূড়ান্তকরণ ও তাদের রিট নিষ্পত্তির পর বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। কারণ দ্বিতীয় পর্যায়ের ঠিকাদার কার্যাদেশ অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। এ ছাড়া বেলার দায়ের করা রিট নিষ্পত্তির জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এবং সামগ্রিক জটিলতার দায় নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, ‘আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও তাড়াহুড়ো করে দরপত্র আহ্বান, বিল প্রদান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়া মালামাল আনা হয়েছে। এসব কারণে অযথা বাড়তি ব্যয় হয়েছে এবং যে কাজের এখন প্রয়োজন নেই, তা-ও অনানুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু পরিমাপ করে অনিয়মের দায় নির্ধারণ করতে উপযুক্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে আর কোনো বাড়তি ব্যয় না করে বর্তমান অবস্থায় যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কেনাকাটা বন্ধ করে সার্বিক পর্যবেক্ষণ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বেলার মামলার কারণে কাজটি আটকে গিয়ে ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আগে পরিমাপের সময় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ না করায় এবং ঠিকাদারের বিলসংক্রান্ত জটিলতায় সিদ্ধান্ত হয়, তাদের বিল দেওয়া হবে না। বর্তমানে ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারের সরবরাহ করা মালামাল স্থাপন বা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’
আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও দরপত্র ও বিল দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাবেক মেয়রের ক্ষমতার প্রভাবে অনেক কাজ নিয়ম না মেনে তড়িঘড়ি করা হয়েছিল। এগুলো পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমান প্রশাসকের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়।’
প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইএমইডির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অপরিশোধিত বিল পরিশোধের আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘২০০০ সালের জলাশয়, পার্ক ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী খেলার মাঠ অন্য কোনো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংস্থার এভাবে মার্কেট নির্মাণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঢাকা শহরে এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় খেলার মাঠের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী মাঠের প্রতি বর্গমিটার জায়গা শিশুদের খেলাধুলার জন্য নিশ্চিত করা উচিত। এ ধরনের বিপুল আর্থিক অপচয় ও আদালত অবমাননার নিরপেক্ষ তদন্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের হস্তক্ষেপ জরুরি।’
বেলার প্রধান নির্বাহী ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ধূপখোলা মাঠের পরিবেশ সংরক্ষণে বেলা আদালতে রিট পিটিশন করলে আদালত সেখানে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেয়। এখন সিটি করপোরেশন যদি সেখানে দরপত্র দিয়ে কাজ শুরু করে, মালামাল আমদানি করে তাহলে আদালতের স্থগিতাদেশের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। আমরা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’