অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “এই ধরনের পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিরই প্রতিফলন।”
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিকার ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় অধিকারের পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা জানান, সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬ হাজার ৯১ জন নিহত এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০ জন আহত হয়েছেন।
অধিকারের পক্ষে ইপিডি’র সহযোগিতায় পরিচালিত নির্বাচনি সহিংসতা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোরবান আলী।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় না এনে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। এতে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটিই নির্বাচনি সহিংসতা অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ।
তারা বলেন, নির্বাচনি সহিংসতা রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনও প্রয়োজন।
সভায় আলোচনায় আরও উঠে আসে, যেসব রাজনীতিক রাজনীতিকেই একমাত্র পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের একটি অংশের মধ্যে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন আইন বহির্ভূত উপায়ে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা দেখা যায়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ ব্যবসায়ী হওয়ায় জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ কখনও কখনও বেশি গুরুত্ব পায় বলেও মত দেন তারা।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য একটি ‘স্কোরকার্ড’ তৈরির প্রস্তাবও আসে আলোচনায়।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি কর্তৃত্ববাদী বা ‘ফ্যাসিস্ট’ মানসিকতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ না করে, তাহলে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়ণও সম্ভব হবে না।
নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ, নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, ভোটার শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আচরণবিধি আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইপিডি’র প্রকল্প পরিচালক এনাসথেসিয়া উইবাওয়া বলেন, “প্রতিবেদনে তুলে ধরা তথ্য ও সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলে তা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান ও মারদিয়া মমতাজ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, এনসিপির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন এস মুরশিদ।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম।সভা সঞ্চালনা করেন অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা।