বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া হলে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেখানে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রার্থীরা নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বাড়িয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ আবারও সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষককে তার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কারণ যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে তিনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে এনটিআরসিএর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রভাব যাতে স্থান না পায়, সেটিই রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান হওয়া উচিত। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।