জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ জ্বালানি খাত একটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটি বলেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন উপেক্ষা করে ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জাতীয় পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বার্তায় এসব কথা জানানো হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
নেতারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘বিশেষ সুবিধাভোগী’ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার মডেলের পুনরাবৃত্তি। তাদের দাবি, ওই সময় কুইক রেন্টাল ও ‘দায়মুক্তি আইন’র সুযোগ নিয়ে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে জনগণের বিপুল অর্থ লুটপাট ও পাচার করা হয়েছে।
এনসিপি আরও বলেছে, এখন একই ধরনের মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা না হলে তা দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাত্র দুদিনের সময় দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং মাত্র চারদিনে নীতিমালার খসড়া তৈরির মতো নজিরবিহীন তাড়াহুড়ো প্রমাণ করে, এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা।
এনসিপির নেতারা বলেন, আমদানিনির্ভর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতে বিপিসির নিজস্ব শোধন, সংরক্ষণ ও বিপণন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া জনস্বার্থবিরোধী এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তাদের অভিযোগ, এলপিজি খাতে বেসরকারি আমদানিকারকদের সুযোগ দিয়ে যেভাবে একটি সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হয়েছিল, একই কৌশলে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো জরুরি জ্বালানির সরবরাহ এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে মুনাফা লুটের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
এনসিপি বলেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত খাত কোনোভাবেই মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। কোনো গোপন সমঝোতা বা জনগণের সম্পদ নিয়ে আঁতাতও মেনে নেওয়া হবে না।
দলটি অবিলম্বে বেসরকারীকরণের এই উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া বাতিল করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে জ্বালানি খাতের পূর্ণ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুনরায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থবিরোধী এই উদ্যোগ বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলে তা প্রতিহত করা হবে।
শীর্ষনিউজ